যা বলেছি, ঠিক বলেছি: মির্জা আব্বাস

বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশে যখন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিয়ে চলছে আলোচনা। তখন তিনি এর ব্যাখা দিতে আয়োজন করেন সংবাদ সম্মেলনের।

রোববার (১৮ এপ্রিল) বিকালে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেন, আমার বক্তব্য কাটপিস করে সংবাদমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। একটি গণমাধ্যম লিখেছে, ৬ ঘণ্টা পর আব্বাসের ইউটার্ন। মির্জা আব্বাস ইউটার্ন করে না। যা বলেছি, ঠিক বলেছি।

তিনি বলেন, আমার বক্তব্যের কাটপিসকে তুলে ধরে, সামনের অংশ-পেছনের অংশ বাদ দিয়ে নিজের মতো করে মিডিয়াগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। এর সংগে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এজন্য আমার দল এবং আমি কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করি না। যারা লিখেছেন তারাই দায় দায়িত্ব নেবেন। আমি যা বলেছি, আমার সংগঠনের ভালোর জন্য বলেছি। কারো ক্ষতির জন্য বলিনি। ইলিয়াসকে স্মরণ করেই বলেছি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি জানি আমার সাংবাদিকরা মনে হয় মাস্টার্সের নিচে না। আমি একজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। আমি কেনো বলবো, আমি জানি সরকার জড়িত নয়। এটা কটাক্ষ করে বলেছি, তাহলে সরকারই বলুক ইলিয়াস আলী কোথায় আছে? সরকারকেই জবাব দিতে হবে। সরকারের সময় জলজ্যান্ত ইলিয়াস গুম হয়ে গেলো, সরকার জানে না। কিন্তু কে করলো গুম, আমি একথা বলতে চেয়েছি। আপনারা (সাংবাদিকরা) এতো উচ্চশিক্ষিত, আমার এই কথাটি বুঝতে না পারেন? সরকার করলো না, তাহলে কে করেছে গুম? আমি করেছি? আপনারা বের করতে পেরেছেন? এটা কটাক্ষ। এটা বুঝতে হবে।

দলের শীর্ষ এই নেতা আরও বলেন,, আমি বলতে চেয়েছি-আমার দলের মধ্যে ‘যদি’ কেউ থাকে শয়তান টাইপের। এদের দল থেকে বাছাই করা দরকার। শুধু ইলিয়াস গুম না, সালাউদ্দিনকে পাচার করা হয়েছে। চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে। এরকম আরো হাজার-হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। কে করলো, হাওয়া হয়ে গেলো?

তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর সংগে আমার প্রতিদিন ঝগড়া হতো। ইলিয়াস-রতন মানিকজোড় ছিলো। খোকন, মিলন এদেরকে সামলাতে আমার বেগ পেতে হয়েছে। তাদের মামলা-মোকদ্দমা, জেল-কোর্ট নিয়ে আমি এবং আমার স্ত্রী পাগল হয়ে যেতাম। সুতরাং একটি দলে কার সঙ্গে কী খোঁচাখুচি আছে, এটা নিয়ে এতো মাথা ঘামানো উচিত না পত্র-পত্রিকার।

সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, দয়া করে আপনারা আর টুইস্ট করে কোনো নিউজ লিখবেন না। আমি বুঝলাম না, এতো লোক থাকতে কেন আমাকে টার্গেট করা হলো? এটা একটা অশুভ লক্ষণ। একটি রাজনৈতিক দলের শুরু আছে, এর শেষ নেই। যতোদিন একটি রাজনৈতিক দল থাকবে ততোদিন দুর্বলতা থাকবে, ল্যাকিং থাকবে।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর