রাজশাহীর চারঘাটে পূর্বশত্রুতার জেরে রায়হান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠেছে তারই প্রতিবেশীর নামে।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) গভীররাতে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের ডাকরা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সন্দেহজনক হিসেবে শুক চাঁন (৬০), জিয়ার (৫০), জিল্লু (৬৫) ও সাদেক আলী (৭০) কে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রায়হান (৩৯) জানান, প্রতিদিনের মতো তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তারা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালীন কে বা কারা বাড়ির পাশে দুটি শুকনো খড়ির গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়। আশেপাশের লোক জানতে পেয়ে তাকে ডাকে এবং ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর তার স্ত্রী দেখেন দুই পাশেই আগুনের লেলিহান শিখা ঘরের দিকে ধেঁয়ে আসছে।
রায়হানের স্ত্রী জানান, ঘুম থেকে উঠে তিনি দরজা খুলে বাহিরে যান। দেখে ঘরের দুই পাশে খড়ের গাদায় আগুন জ্বলছে। তা দেখে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হলে সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জমিজমার বিরোধ নিয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি প্রতিপক্ষ শুক চাঁনের পরিবার ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের দোষারোপ করেছেন। সেই সাথে এ ধরনের নেক্কার জনক ঘটনার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা রিনা বেগম জানান, রায়হানের ঘরে আগুন ধরে উঠলে তার বাড়িসহ আশেপাশের আরো অনেকের বাড়ি পুড়ে যেত। এ ঘটনাটি যারা ঘটাতে চেয়েছে তারা অমানুষের কাজ করেছে। তিনি দোষীদের সনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।
রায়হান বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন দলেবলে শক্তিশালী। জমি নিয়ে শুক চাঁনের সাথে বিরোধ রয়েছে। জমির বিরোধ নিয়ে আমার পরিবারের সকলকে হত্যার ষড়যন্ত্র অমানবিক। তাই শুক চাঁনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ সকল বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।