লোহাগাড়ায় গুচ্ছগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ বাড়ি ভস্মীভূত

লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে চুনতি ১নং ওয়ার্ডস্থ আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন মৃত নূর আহমদের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন, মৃত ইব্রাহিমের পুত্র মোঃ শাহ আলম,নুরুল কাদেরের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মৃত মোঃ কাশেমের পুত্র আবুল বশর, মৃত ছরওয়ারের স্ত্রী আয়েশা বেগম , মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী মাবিয়া বেগম , মৃত লালমিয়ার পুত্র ফরিদুল আলম প্রকাশ বৈদ্য ফরিদ,মৃত মোজাহের আহমদের পুত্র আবু তাহের, মৃত নজু মিয়ার পুত্র আবুল কালাম, মৃত আব্দুস ছালামের পুত্র আব্দুল আমিন।

অগ্নিকান্ডে নগদ টাকা,স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানান।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদুল আলমের বাড়ির রান্না ঘরের গ্যাসের চূলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের পুকুরে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন নিভাতে সময় লেগেছে। ততক্ষণে ১০ টি বাড়ির সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়েগেছে। আগুন থেকে কিছুই রক্ষা করা যায়নি বলেও তারা জানান।

ক্ষতিগ্রস্থ মাহমুদা খাতুন বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছি। সারা জীবনের সঞ্চিত সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই করে ফেলেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।

মৃত ছরওয়ারের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, ছেলেকে ইটভাটায় কাজে পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। আগুনে আমার বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই করে ফেলেছে। টাকাটাও রক্ষা করতে পারলামনা।

আবুল কালাম বলেন ফ্রিজ,আসবাবপত্র, কিস্তির জন্য রাখা নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু আগুনে ছাই করে ফেলেছে।

আবু তাহের বলেন, রমজানে খরচের জন্য অনেক কষ্টে ২২ হাজার টাকা জমিয়েছিলাম। আগুনে জমানো সব টাকা ও দেড়ভরি স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু পুড়ে গেছে।

আনোয়ারা জানান, বাড়িতে কাপড় সেলাই করে অনেক কষ্টে সংসার চালায়। ঈদে সেলাই করে বিক্রি করার জন্য চুনতি বাজারের টুনু সওদাগর থেকে বাকি করে ২৫ হাজার টাকার কাপড় এনেছিলাম। আগুনে সবকাপড় পুড়ে গেছে।

খবর পেয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিনসহ ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১ নং কলোনির ১০ বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জনু বলেন অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি এবং প্রাথমিকভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

আবদুল করিম/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর