ব্যাগ কাঁধে বৃদ্ধ আমজাদ আলী। বয়স ৮৫ ছুঁই ছুঁই। হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেন নিজ বাড়িতে। কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করা হলো ,আপনার কি সন্তান নেই ? জবাবে বলল,আছে কিন্তু সে খোঁজখবর নেন না তার। সরকার থেকে কোন সহযোগিতা পান কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারতো দেয় কিন্তু মুই পায় না। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষটি সরকার থেকে কোন সহযোগিতায় পায় না। তবে তার অভিযোগ, যারা পান তারা বেশিরভাগই ধনী৷
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারে কর্মক্ষম দুস্থ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারী আছেন এবং কোনো উপার্জনক্ষম সদস্য অথবা অন্য কোনো স্থায়ী বা নিয়মিত আয়ের উৎস নেই, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্য কোনো সুবিধা ভোগ করেন না, এমন দুস্থ নারীরা ওই সুবিধা পাবেন।
এ তথ্য নিয়ে অনুসন্ধানে নামে বার্তা বাজার। বেরিয়ে আসে একই পরিবারের তিনজন পান সরকার কতৃক ভিজিডির চাল। তবে অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলার ৩নং ফুলঝুরি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী, প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই পরিবারের মধ্যে তিন জন পান ভিজিডির চাল।
বরগুনা সদর উপজেলার ৩নং ফুলঝুরি ইউনিয়নে এরকম অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে তারা সরকার থেকে কোন সহযোগিতায় পান না। যারা এই ভিজিডি চালের আওতাভুক্ত তাদের পরিবারের লোকজন চাকরি করেন এবং থাকেন বিদেশে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, যারা এ বিজিডি চালের আওতায় তারা পাচ্ছেন না এ সহযোগিতা। আর যাদের পরিবারের অনেকেই চাকরি এবং বিদেশ থাকেন তারাই পাচ্ছে এ সহযোগিতা। তাহলে এ সহযোগিতা কি ধনীদের জন্য? এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কে ফোন দিলে তাদের কোন সারা পাওয়া যায়নি।
এনিয়ে বরগুনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ গোলাম ফারুক খান। তিনি বার্তা বাজার’কে বলেন, এ ভিজিডি চাল হচ্ছে অসহায় এবং খেটে খাওয়া মানুষের জন্য। যখন শুনলাম এটা অন্যায় হচ্ছে , তখন এলাকাবাসীর পক্ষে এ অভিযোগ দেন তিনি। আশা করছেন এর সঠিক বিচার পাবেন সাধারণ মানুষ।
মেহেদী হাসান/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম