মহামারি করোনার উর্ধ্বমূখী সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রথমবারের মত দেশে ঘোষণা করা হয়েছে সর্বাত্মক লকডাউন। গত ১৪ এপ্রিল থেকে চলমান এই লকডাউনের সীমা আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রয়েছে। সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এই লকডাউন আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটি পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে।
তবে এখন যে মাত্রার লকডাউন চলছে তা থেকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ শিল্প কারখানা ও ব্যাংক খোলা ছাড়াও আরও কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা হতে পারে।
গত এক সপ্তাহের লকডাউনের অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য আগামী সোমবার (১৯ এপ্রিল) সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানেই চুড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হবে লকডাউন বৃদ্ধির। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘোষণা হতে পারে লকডাউনের।
এর আগে গত ১৯ মার্চ ১৮ দফা নির্দেশনার মাধ্যমে করোনা রোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ৫-১১ এপ্রিল অফিস-আদালত খোলা রেখে সীমিত মাত্রারা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওইসব পদক্ষেপ কার্যত কোনো ফল দেয়নি। ফলে ১৪ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক লকডাউনের ঘোষণা আসে।
এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে লকডাউন নিয়ে হওয়া গত সপ্তাহের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ১৪ দিনের কথা আলোচিত হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহ করে লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাই ২১ এপ্রিলের পর বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতি আরো এক সপ্তাহ বাড়ছে এটা মোটামুটি নিশ্চিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারকে অন্তত ২১ দিনের লকডাউন দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু মানুষের জীবন-জীবিকাসহ সবদিক চিন্তা করে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
দেশের এমন নাজুক পরিস্থতিতে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত যদি লকডাউন চলে তাহলে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে পারে সরকার। তখন সংক্রমণ কিছু কমলেও সেটা তেমন কার্যকরী কিছু নাও হতে পারে। তবে এখন যে কঠোর লকডাউন চলছে তা কিছুটা হলেও শিথিল হতে পারে। কিন্তু দুপাল্লার যান চলাচলের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সূত্র- জাতীয় দৈনিক।
বার্তা বাজার/এসজে