ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের অন্তর্গত দোগাছি মন্ডলপাড়া গ্রামে জমির আইল কাঁটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত কৃষক পানিয়া বর্মনের ছেলে শ্রী সঞ্জয় পিতা হত্যার বিচার চেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করার ৬ মাস পেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে আসামীরা প্রতিবেশী হওয়ায় প্রতি নিয়ত বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় তাদের ভয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, জমির আইল কাঁটাকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের ৩ আগষ্ট প্রতিপক্ষের হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি মন্ডলপাড়া গ্রামের নিরীহ কৃষক পানিয়া বর্মন (৬০)। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শ্রী সঞ্জয় ওই দিনই বালিয়াডাঙ্গী থানায় ফাকাশু (৫৫), ধনদেব (৫০), মহেশ্বর চন্দ্র সিংহ (৩২), কৃষ্ণ চন্দ্র সিংহ (৪৬), সিদ্ধি রাণী(৪০),মধুসুধন বর্মন (৩০) ও রজনী কান্ত (২৩)‘র নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু মামলা দায়ের করার ৬ মাস পেড়িয়ে গেলেও এখন অব্দি মামলার কোনো আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কা ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি আসামীদের গ্রেফতার না করায় আসামীরা বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় তাদরে হুমকি-ধামকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।এতে করে আসামীদের ক্রমাগত হুমকি-ধামকিতে উল্টো কোনঠাসা হয়ে পড়েছে তারা।
নিহত কৃষক পানিয়া বর্মনের ছেলে ও মামলার বাদী শ্রী সঞ্জয় জানান, দীর্ঘ ৬ মাস পেড়িয়ে গেলেও একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামীদের একজনও গ্রেফতার হলো না।অথচ তারা হত্যা করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে উল্টো আমাদেরকেই হুমকি-ধামকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে। দেশে আইন-আদালত বলে কি কিছু নেই! দিন দুপুরে একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলল অথচ আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছে না! শুনেছি তারা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্বাভাবিক মৃত্যুর জাল সার্টিফিকেট তৈরী করছে। আর এ ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে যাবে।আমি চাই প্রকৃত আসামীরা আইনের আওতায় আসুক, তাদের সঠিক বিচার হোক।
এ বিষয়ে জানতে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুল হক প্রধানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ মুহুর্তে বলতে পারছি না, নথিপত্র দেখে জানাতে হবে। তার সাথে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
৬ মাসেও কোনো আসামী ধরা পড়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে বাদী পরিবারের অভিযোগ ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে গড়িমসি করছে। এ বিষয়ে তারা জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন/বার্তাবাজার/পি