কবরী মারা গেছেন

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী আর নেই ( ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কবরীর ছেলে শাকের চিশতী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে গুণী এই শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল খুসখুসে কাশি ও জ্বর অনুভূত হওয়ায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। পরীক্ষা করে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত। এরপর থেকে ভর্তি ছিলেন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে।

সেখানে ৮ এপ্রিল অবপস্থার অবনতি হয় তার। কুর্মিটোলা হাসপাতালে আইসিইউ সংকট থাকায় কবরীকে নেওয়া হয় শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে। সেখানে তিনি আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়, ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিগুলো।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তাঁর আসল নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।

তারপর টেলিভিশন ও সবশেষে সিনেমায়। কবরী বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাঁদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী পাঁচ সন্তানের মা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর