ধামইরহাটে কোটি টাকা ব্যায়ে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে চলতি অর্থ বছরে এলজিইডি’র আওয়াতায় এক কোটি ৭লাখ টাকা ব্যায়ে মঙ্গল খাল পুন:খননের নামে টাকা হরিলুটের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাল খননে সরকারি নিময় অনুসারে প্রশস্ত ও গভীরতা না করায় বর্ষ মৌসুমে খলের পানি উপচে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া যাবে অন্যদিকে খরা মৌসুমে পানি থাকবে না। এতে এলাকাবাসিদের কোন কাজেই আসবে না বলে জানিয়েছেন খাল এলাকার বাসিন্দারা। খালটি সঠিক নিয়মে খনন ও অনিয়মকারিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সমিতির এক অংশ সদস্য ও খাল পাড়ের বাসিন্দা।

জানা গেছে, নওগাঁর ধামইরহাটের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত মঙ্গলখাল। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য একটু পানিতেই ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর ডুবে যেতো। জনসাধারনকে এই সমস্যার থেকে বাঁচাতে চলতি অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ‘টেকসই ক্ষুদ্রকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে’র আওতায় উপজেলার ঘুকসির মোড় থেকে ধামইরহাট কলেজের মোড় পর্যন্ত এক কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যায়ে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ কিলোমিটার মঙ্গলখাল পুন:খননের প্রকল্প শুরু করা হয়। খনন কাজটি শুরু করে ‘ধামইরহাট মঙ্গলখাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি:। নাম মাত্র ১৫ লাখ টাকা ব্যায় করে ইত্যে মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে সমিতির সভাপতি নূরুজ্জামান ও দীর্ঘ ৯ বছর থেকে উপজেলায় এলজিইডি প্রকৌশলী আলী হোসেনের যোগসাজশে বাঁকি টাকা হরিলুট করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও সমিতির সদস্যদের অভিযোগ করেছেন খলের পাশে থাকা লোকজন।

ধামইরহাট মঙ্গলখাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য আবু তালেব জানান, সমিতির ৫৬২ জন সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ সদস্যেদের মতামত না নিয়েই ও এজিএম না করেই সমিতি সভাপতি নূরুজ্জামান ও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সিডিউল মতাবেক কাজ করা হয়নি। খালের পাশের জমি থাকা জনসাধারণদের জানানো নিয়ম থাকলেও তা না জানিয়ে উপজেলায় ২০১১ সালের ১০ জানুয়ারি যোগদানকারি উপজেলায় এলজিইডি প্রকৌশলী আলী হোসেনের যোগসাজশে বাঁকি টাকা হরিলুট করা হয়েছে।
সমিতি লি: এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হেলাল হোসেন জানান, খালের ১০ ফিট থেকে ১৫ ফিট প্রশস্ত খনন করা ও ৩ ফিট থেকে ৫ ফিট গভীতরা করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। শুধু ৫ ফিট থেকে ১০ ফিট প্রশস্ত খনন ও ১ ফিট থেকে ২ ফিট গভীতরা করে খাল খননের ফিনিশিং দেয়া হয়েছে। এর ফলে বর্ষ মৌসুমে খলের পানি উপচে ফসলি জমির ফসল নষ্ট হবে। পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া যাবে।

মঙ্গলখালের পাশে দক্ষিণ চকযদু গ্রামের মুনছুর হোসেন পাশে স্থানীয়রা জানান, মাটি কাটা মেশিন দিয়ে শুধুমাত্র খালের ঘাস চেঁচে দিয়ে গেছে। যার ফলে খালের পাড়ে অধিকাংশ এলাকায় মাটি নেই। অনেক জায়গার মাটি ইত্যে মধ্যে খালের মধ্যে বৃষ্টির পানিতে খালের মধ্যে ধ্বসে গেছে।

ধামইরহাট উপজেলার ব্রিজ এলাকার মেসবাইল আলম জানান, খালের তিন ফিট গভীরতা করার নিময় থাকলেও তা না করায় খরা মৌসুমে পানি থাকবে না। এতে এলাকাবাসিদের কোন কাজেই আসবে না। এদিকে সমিতির লোকজন ও সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে মাত্র ১৫ লাখ টাকা খরচ করে মাত্র মাত্র খননকাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সমিতির সভাপতি ও কার্যকারি কমিটির লোকজনের বাড়ি মঙ্গলখালের আশেপাশে নয়। এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক ও কিছু সরকারি কর্মকর্তা যোগসাজশে মঙ্গলখালের আশেপাশে সদস্যদের কমিটিতে না নিয়েই নাম মাত্র কাজ করে খনন সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। ইত্যে মধ্যে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা নিয়েছেন সমিতির লোকজন। বাঁকি ৬৭ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত এই অনিয়মকারি ও হরিলুটকারিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সমিতির অভিযোগকারি সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ইউসুফ জানান, নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে এই খনন করা হয়েছে।
বর্তমান সভাপতি নুরুজ্জামান হোসেন জানান, কাজের কোন অনিয়ম করা হয়নি। এই খাল খনন করায় ধামইরহাট উপজেলাবাসি খুশি হয়েছেন।

২০১১ সাল থেকে ধামইরহাটে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ধামইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী আলী হোসেন হরিলুটের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ইত্যে মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে। দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা সমিতিতে দেয়া হয়েছে। খাল খনন সুষ্ঠু হয়েছে কি না চুড়ান্ত মাফ-জোঁক শেষে পর্যায়ক্রমে বিল দেয়া হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম উদ্দিন মিয়া জানান, সমিতির সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যার কারণেই এসব অনিয়মের অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। অপরপ্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ ৯ বছর থেকে একই উপজেলায় কি ভাবে রয়েছেন তার সঠিক কারণ জানা নেই।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর