দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ
ঢাকা মহানগরের দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে জুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই চাঁদাবাজি ও মারধর সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর রাজধানীর দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেকের তেঁতুলতলা এলাকায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তেঁতুলতলা এলাকার কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। তেঁতুলতলা এলাকার একটি ছোট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর জুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মারামারির সূত্রপাত ঘটে।
ঘটনা অনুসন্ধান করে জানা যায়, অত্র এলাকার ছোট একটি গার্মেন্টস রয়েছে। সেখানে মানুন নামের এক ব্যক্তি বৈধভাবে জুট ব্যবসা করে আসছে। সম্প্রতি ওই গার্মেন্টসে এক শ্রমিকের বকেয়া থাকা বেতন উত্তোলন করে দিতে আসেন দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম আহমেদ বাপ্পি। সেখানে এসেই গার্মেন্টসের গেটে লাথি মারেন ও ভেতরে প্রবেশ করে এমডিসহ কয়েকজনকে মারধর করেন।
এক পর্যায়ে বাপ্পি দাবি করেন যে, এই গার্মেন্টসের সব জুট তাকে দিতে হবে। এ নিয়ে গার্মেন্টসটির বৈধ জুট ব্যবসায়ী মামুনের (৩২) জুট ব্যবসায়ীর দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বাপ্পির হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে এলাকার কিছু মুরুব্বীদের মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়।
কিন্তু ২য় রমজান ইফতারের পর ছাত্রলীগ সভাপতি বাপ্পি তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তেঁতুলতলা এলাকায় হামলা করেন। এতে রুবেল, রানা ও মামুন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মীসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করছে আহত রুবেল। যার নং-২৪/১৬-০৪-২০২১।
আহত রুবেল জানায়, ইফতারের পর বের হলে দেখতে পাই এলাকার এক ছোট ভাইকে ধরে নিয়ে যায় বাপ্পি ও তার গুন্ডা বাহিনী। আমি বাঁধা দিলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। আমাকে বাঁচাতে মামুন এগিয়ে এলে তাকেও রামদাঁ দিয়ে হাতে কোপানো হয়। আল্লাহ সহায় ছিল বলে কোনরকমে জানে বেঁচে যাই।
মামুন বলেন, আমি বৈধভাবে জুটের ব্যবসা করি। ছাত্রলীগের বাপ্পি চাঁদা দাবি করলে আমি তা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে ক্ষিপ্ত হয় বাপ্পি গ্রু অতর্কিত হামলা চালায় আমাদের উপর।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শামিম আহমেদ বাপ্পিকে ফোন করলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমি এমন কোনো ঘটনার সাথে জড়িত নই।
এখন পর্যন্ত এলকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দক্ষিণখান থানা পুলিশ মোল্লারটেক এলাকায় টহল ও তদারকি করছে।
বার্তা বাজার/এসজে