১৬ কোটি বার চেষ্টা করা হয়েছে মুভমেন্ট পাস পেতে

করোনার উর্ধ্বমূখী সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের ২ দিন পার হয়েছে। প্রথম দিন মানুষজন বাইরে তেমন বের না হলেও ২য় দিন (বৃহস্পতিবার) মানুষজন ঠিকই আস্তেয়াস্তে রাস্তায় বের হতে শুরু করেছে। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিড় করছেন অনেকে। মূল সড়ক থেকে এই দৃশ্য দেখা গেছে পাড়ার অলি-গলিতেও।

বৃহস্পতিবার পুলিশের ‘মুভমেন্ট পাস’ চেয়ে প্রায় ১৬ কোটি বার হিট বা নক করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে হিট হয়েছে ১৪ হাজার ২৬টি।

সকালে মিরপুর-১১ এর কবরস্থান রোড এলাকায় দেখা গেছে সাধারণ মানুষের ভিড়। তাদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখেই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন তারা। এ সময় পল্লবী থানা পুলিশের একটি ভ্রাম্যমাণ টিমের গাড়ি সেখানে পৌঁছালে তারা দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে।

একই অবস্থা দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকাতেও। বিকাল ৪টার দিকে হাতিরঝিলের রামপুরা এলাকায় দেখা গেছে, লেকের পাড়ের ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটছেন ৭-৮ জন যুবক। তাদের তিনজনের মুখে মাস্ক নেই। বাকিরা থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছেন মাস্ক। যুবকদের একজন জানান, সারাদিন বাসায় ছিলেন। বিকালে একটু হাওয়া লাগাতে বের হয়েছেন।

এরমধ্যেই কোথাও কোথাও বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে গাদাগাদি করে বসে গল্প করছেন কেউ কেউ। ছবি তুলছেন অনেকে। তাদের একজন জানান, মাস্ক সবসময়ই সঙ্গে থাকে। কিন্তু বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এবার সঙ্গে আনতে ভুলে গেছেন তিনি।

কাওরানবাজারে জনসমাগম ছিল উল্লেখযোগ্য। মসজিদ মার্কেটের সামনে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করছিলেন বিক্রেতারা। কেউ কেউ সাজিয়ে ছিলেন ইফতারের পসরা। তাদের অনেকের মুখেই মাস্কের দেখা মিলেনি।

এমনকি ক্রেতাদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। ইস্কাটন থেকে কাওরানবাজারে এসেছিলেন ষাট বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম। কেনাকাটা করে তা ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে বিরক্তি প্রকাশ করে নীরব থাকেন তিনি।

শাহবাগ এলাকায় হেঁটে যাচ্ছিলেন অনেকে। তাদের মধ্যে এক নারীর মুখে মাস্ক নেই। ১০-১২ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটছিলেন তিনি। মাস্ক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেই ওই নারী পরনের কাপড়ের আঁচল মুখে টেনে ধরে জানান, মাস্কটি একটু আগে ছিঁড়ে গেছে। ফেলে দিয়েছেন।

ওই এলাকায় অনেকেই অপ্রয়োজনে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। অনেকেরই ছিল না মুভমেন্ট পাস। দুপুর থেকে শাহবাগে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় র‌্যাব-৩ এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় দুপুরের মধ্যেই শাহবাগ এলাকায় অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। তারা মুভমেন্ট পাস ছাড়াই অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়েছিলেন। বাইরে বের হওয়ার বিষয়ে যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে না পারায় দুপুরে ওই এলাকায় ১৫ জনকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সূত্র- মানবজমিন।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর