ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটে লকডাউন উপেক্ষা করে চলছে যাত্রী পারাপার

কর্ণফুলী নদীর ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটটি যেন এক মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনা যেন লেগে আছে। ইজারাদার ও সাব-ইজারাদারের গাফিলতির কারণে বার বার এই ঘাট হয়ে পারাপারে দুর্ঘটনা ঘটলেও যেন দেখার কেউ নেই। অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝায়, অদক্ষ চালক, ক্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন চালিত নৌকার ফলে গত ১১ বছরে ৩টি দুর্ঘটনায় ১০ জনের অধিক যাত্রী প্রাণ হারান।

গত বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে দেশে। বন্ধ রয়েছে সব ধরণের পরিবহন ব্যবস্থা।

কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ইঞ্জিত চালিত একটি নৌকা ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ২০-৩০ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচর থেকে সল্টগোলা ঘাটের পারাপারের সময় কর্ণফুলী নদীর মহেশখালের মুখে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডাঙ্গাচর আর স্টলগোলা মাঝামাঝি এমভিপি জেটিতে নোঙর করে থাকা একটি বড় জাহাজের ফাঁকে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটে। এসময়ে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন যাত্রী নদীতে লাফ দেয়। তাদের মধ্যে সবাইকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে একজন যাত্রী।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডাঙ্গারচর থেকে সল্টগোলা অভিমুখে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিত চালিত নৌকা যাওয়ার সময় জেটি ও জাহাজের মাঝে ঢুকে যায়। সবাই হুমড়ি খেয়ে এক সাইটে চলে আসলে ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি কাত হয়ে যায়। এতে বেশ কিছু যাত্রী আতংকিত হয়ে নদীতে লাফ দেয়।

স্থানীয়রা জানান, ঘাটটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) থেকে ইজারা দেয়া হলেও যথাযথ তদারকি করা হয় না বলে অভিযোগ নিয়মিত যাত্রীদের। এদিকে বৃহস্পতিবার ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটে নৌকা দুর্ঘটনায় যাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় নিরাপদ পারাপারের বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অদক্ষ চালক, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ক্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল ও লাইফ জ্যাকেট না থাকাসহ বেশ কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বর্তমানে ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটটি ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন ডাঙ্গারচরের আবদুল ছবুরের ছেলে মোহাম্মদ ওসমান নামে এক ব্যক্তি। দুর্ঘটনার সময় ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি বিকল হলেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময় পেরিয়ে গেলেও ইজারাদারের দেখা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইজাদার মোহম্মদ ওসমান বলেন, নৌকার ফাঁকায় অল্প করে ময়লা আটকার কারণে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এসময়ে যাত্রীরা ভয়ে নদীতে লাফ দেয়। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন নৌকা চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১০-১৫ জন লোকন জেটিতে কাজ করে আর কিছু খামারী নগরে দুধ নিয়ে যায় তাদের পার করা হচ্ছে মাত্র।

সুমন শাহ/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর