তারাবিহ পড়তে বন্ধ গেট টপকালেন নির্ধারিত ২০ জনের বেশি মুসল্লিরা
মহামারি করোনার উর্ধ্বমূখী সংক্রমণ প্রতিরোধে ওয়াক্ত ও তারাবিহের নামাজে ২০ জনের বেশি মুসল্লি একসাথে নামাজ না আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর ফলে ১৩ এপ্রিল দিনগত রাতে প্রথম তারাবিহের নামাজ পড়তে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন সাধারণ মুসল্লিরা।
রাজধানীর বাংলামোটরে বাইতুল মোবারক মসজিদে ২০ জন মুসল্লি প্রবেশের পর গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বাইরে মুসুল্লিদের ভিড় থাকলেও সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক অতিরিক্ত কাউকে মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
প্রায় একই রকম চিত্র দেখা গেছে, খানজাহান আলী জামে মসজিদ, ঢাকা উদ্যান জামে মসজিদসহ অসংখ্য মসজিদে। সেখানেও নির্ধারিত সংখ্যার বেশি মুসল্লি মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এসময় অনেককে মসজিদের গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
মূলত সরকারি নির্দেশনা মানতে মসজিদ কমিটিগুলোকে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।
এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জামাতে অংশ নিয়েছেন ৪ কাতারে। মূল ফটক বন্ধ করে দেয়ার পর অনেকে মসজিদের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। তবে মাস্ক ব্যবহার, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সচেষ্ট ছিলেন মুসল্লিরা।
এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমতাবস্থায় রমজানে মসজিদে গিয়ে তারাবিসহ অন্য নামাজে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করায় যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ এপ্রিল হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মসজিদে নামাজ আদায়ে নিম্নোক্ত নির্দেশনা জারি করা হলো:
(ক) মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।
(খ) তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদিমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।
(গ) জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করবেন।
(ঘ) সম্মানিত মুসল্লিগণকে পবিত্র রমজানে তিলাওয়াত ও যিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদমুক্তির জন্য দোয়া করার অনুরোধ করা হলো। সূত্র- বাংলাভিশন।
বার্তা বাজার/এসজে