বালিয়াকান্দিতে ১৬ মাসে ৫৩ জনের আত্নহত্যা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে গত ১৬ মাসে ৫৩ জন নারী, পুরুষ, শিশু আত্নহত্যা করেছে। বেশির ভাগ আত্নহত্যার ঘটনা ঘটেছে পারিবারিক কলহের জের ধরে। বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আত্নহত্যার কুফল সম্পর্কে অবগত করে আসছে।

বালিয়াকান্দি থানা সুত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৪১ জন গলায় ফাঁস, বিষপানে আত্নহত্যা করেছে। এদের মধ্যে মহিলা ২৫ জন, পুরুষ ১৬ জন। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ জন আত্নহত্যা করেছে। এদের মধ্যে মহিলা ৩ জন, শিশু ২ জন, পুরুষ ৭ জন। এদের মধ্যে পেটে ব্যথা, মানসিক রোগী, পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি আত্নহত্যার ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম টুনুর ছেলে স্থানীয় হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আলাউদ্দিন (১৪) গলায় ফাঁস নিয়ে আত্নহত্যা করেছে। সে কয়েকদিন ধরে বলছিল, গলায় রশি ও বিষপান করলে মারা যায় না। সে গলায় ফাঁস নিলে বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ছাবনী পাড়া গ্রামে গলায় ফাঁস নিয়ে মনজু মিয়া (৫৫) নামে একজন জুটমিল শ্রমিক আত্নহত্যা করেছে। সে ওই গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। গত ৭ এপ্রিল পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজ্জাক জুট মিলে মনজু মিয়া চাকুরী করতো। বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে বাড়ীর অদুরে আমগাছের ডালের সাথে তার ঝুলতে দেখা যায়। দ্রুত নামালেও তার আগেই মৃত্যু হয়।

বালিয়াকান্দিতে ৩ সন্তানের জননী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্নহত্যা করেছে। ওই গৃহবধুর নাম, হালিমন বেগম (৩৫)। সে উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ইকোরজনা গ্রামের তোফাজ্জেল প্রামানিকের স্ত্রী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, গৃহবধু হালিমন বেগম একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৭ মার্চ বিকাল ৩টার দিকে নিজবসত বাড়ীর ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওরনা পেচিয়ে আত্নহত্যা করে।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারিকুজ্জামান বার্তা বাজারকে বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আত্নহত্যার কুফলসহ জনসাধারণকে সচেতনতা সৃষ্টি করে আসছি। এ এলাকাটি আত্নহত্যা প্রবন এলাকা। এরা বেশি আবেগী হওয়ার কারণে আত্নহত্যার ঘটনা ঘটছে। এ কারণে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে।

মেহেদী হাসান রাজু/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর