সাতক্ষীরায় গাছে গাছে ঝুলছে সজনে ডাটা, বাণিজ্যিকভাবে চাষের দাবি

গাছে ফুলে ফুলে ভরে যাওয়ার পর এবার ঝুলছে সজনে ডাটা। আশ যুক্ত ডাটা হওয়ায় খেতেও বেশ সুস্বাধু। এটি কৃষিতে ফসল কৃষিতে অন্তর্ভূক্ত না হলেও দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়। প্রাকৃতিক দূর্যোগে সজনের তেমন কোন ক্ষতি করতে পারে না এ ফসলের। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বর্তমান চিত্র।

গাছ মালিকরা বলছেন, বিগত বছরের চেয়ে এ বছর সজনের উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। নানান ঔষধি গুনাগুন, সুস্বাদু ও তেমন কোন উৎপাদন খরচ না হওয়ায় এলাকায় সজনের স্থানীয় ও রাজধানী সহ সারাদেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। একক কোন চাষাবাদ না হলেও উপজেলার ব্যবহার অনুপযোগী বিভিন্ন স্থানে সজনের আবাদ হয়েছে। পুষ্টিসমৃদ্ধ মৌসুমি সবজির মধ্যে সজনে অন্যতম।

ড্রামস্টিক, মরিঙ্গাসহ দেশ-বিদেশে সজনে বহু নামে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে এক নামেই সকলেই সজনে নামেই পরিচিত। তবে সজনেয় বহুবিধ ঔষধি গুনাগুন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবীদগন। আমাদের দেশে সজনে সচারাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে, মৌসুমি এবং ১২ মাসের। তবে ১২ মাস জাতের তেমন বেশি আবাদ না হয়ে থাকলেও মৌসুমি জাতের বেশিরভাগ আবাদ হয়ে থাকে। এসব নানাবিধ গুনের কারনে দেবহাটার বিবিন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমানে সজনের আবাদ হয়ে থাকে। একক কোন চাষাবাদ কোথায়ও না হলেও উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে অন্যান্য ফসল আবাদের অনুপযোগী যেমন ক্ষেতের আইল, ঘেরের বাঁধ এবং রাস্তার দু’পাশ দিয়ে মৌসুমি সজনের আবাদ রয়েছে।

ইন্টারনেট থেকে পাওয়া সুত্রমতে: এ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ড পেইন, ব্লাড পেসার, কিডনিতে পাথর, মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরাসহ বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে সজনের ডাটায়। সজনে গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্ঠিমান সম্পন্ন উদ্ভিদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুন সম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজনে গাছকে যাদুর গাছ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক বিদ্যমান। শরীরে কোলস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে, হজমের সাহায্য করে, শরীরে পুষ্টি ও শক্তি যোগায়, বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং সজনের গুড়ার পেষ্ট ত্বকের জন্য উপকারী ও লিভার এবং কিডনি সুরক্ষিত রাখে। তাছাড়া সজনে চাষে বাড়তি কোনো খরচ হয় না। দেবহাটা থেকে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমান সজনে রপ্তানি হয়। স্থানীয়রা প্রথম পর্যয়ে উচ্চমূল্যে পেয়ে লাভবান হয়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও মৌসুমি এই চাষ করে বিনা খরচে সন্তোষজনক অর্থ উপার্জন করে থাকে। সবমিলে একক কোন চাষাবাদ না হলেও সজনের চাষ দেবহাটাসহ দক্ষিণ অঞ্চলের অপার সম্ভবনার হাত ছানি দিচ্ছে। তাই আবাদের উদ্যেগ গ্রহন করা হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরের দেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে সজনে বলে মনে করনে স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাজারের কাঁচা তরকারি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, মৌসুম শুরুতে এবছর ২শত টাকা দরে বিক্রি হয়েছে সজনে। সময় বড়ার সাথে সাথে এর দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে ৫০/৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সজনের ডাটা। বাজারে সজনে ডাটার বেশ চাহিদা রয়েছে।

সজনে চাষি মীর বছির আলী জানান, সজনের গাছের ডাল থেকে নতুন গাছের সৃষ্টি হয়। এবছর ডাল পুতলি (রোপন) ফিরে (আগামী) বছর গাছে ফলন হয়। ছোট বেলায় ফলের দাম বেশি হয়। আর বড় হলে কমে। বাড়িতে বড় ৪/৫ টা গাছ থাকলে বছরে ৫/৬ হাজার টাকা আয় করা যায়। বাড়তি খরচ হয় না। তাই পুরাতন গাছের ডাল পুতে গোড়ায় কদিন পানি দিলি ডালের গা দে ছোট ছোট পতা বের হয়। সামান্য খেয়াল করলি ভালো ফলন হয়। বছর বছর গাছের ডাল কেটে দিলি নতুন ডালে গাছ জোর পায়। এই চাষ যদি সরকারি ভাবে উদ্যোগ নিয়ে চাষ করা যায় তাহলে কৃষিতে সাফল্য আনবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতু মীর জানান, কৃষি বিভাগ মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষকের প্রচেষ্টা বর্তমান সরকারের হাত ধরে কৃষিতে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। দেশের কৃষিতে উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের উন্নয়ন হবে। সেই লক্ষে কৃষকের সাথে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সজনে একটি ডাটা জাতীয় সবজ্বি হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। এটি বিভিন্ন তরকারির সাথে রান্না করে খাওয়া যায়। সজনের ডাটায় প্রচুর পরিমান ভিটামিন উপাদান রয়েছে। সজনে চাষে আমাদের লক্ষমাত্রা না থাকলেও এটি দেবহাটা সহ আশে পাশের এলাকায় ব্যাপক উৎপাদন হয়। এই এলাকা থেকে সজনে ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে।

তবে স্থানীয়রা মনে করেন যদি বানিজ্যিক ভাবে সজনে ডাটা চাষ করা যায়। তাহলে এটি কৃষিতে অনেক সাফল্য বয়ে আনবে। একই সাথে অর্থনীতে অনেক ভূমিকা রাখবে।

মীর খায়রুল আলম/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর