পাবনায় জটিল রোগে আক্রান্ত ৬ মাসের এক শিশু; উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন

পাবনার জোড়া মাথা ভুমিষ্ঠ হওয়া শিশু রাবেয়া রোকেয়ার কথা আমাদের সকলের জানা। প্রধানমন্ত্রীয় সুদৃষ্ঠি ও সরকারি পৃষ্টপোষকতায় চিকিৎসার পরে বর্তমানে তারা দুইজনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। এদিকে একই উপজেলার শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছে মিজানুর রহমান নামে ৬ মাস বয়সি আরো একটি শিশু। দরিদ্র পরিবারের জন্ম নেয়া এই শিশুটি উন্নত চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকলেও সল্প সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসাসহ অপারেশন করানানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসগণেরা।

জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ দূরে প্রত্যান্ত গ্রাম ইদুলপুর। পাবনা চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা উইনিয়নের শেষ প্রান্ত। ভ্যানচালক দিনমুজুর রফিকুল ইসলাম ও মা গৃহিনী খুশিয়ারা খাতুনের ঘড়ে জন্ম নেয় শিশু মিজানুর রহমান। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটুকরো জমিতে টিনের ঘড় তুলে কোন রকমে বসবাস কছেন তারা। দুটি মেয়ে সন্তানের পরে তার ঘড়ে জন্ম নিয়েছে একটি ছেলে সন্তান। বয়স তার এখন ৬ মাস চলছে। সমাজের শ্রেনী বৈশম্য আর সুচিকিৎসার অভাবে অনেকেই খুব সল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। চিকিৎসার আর অর্থের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ সুচিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। দরিদ্র পরিবারের জন্ম নেয়া এই শিশুটি শারীরিক নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। অসহায় দরিদ্র পরিবারের জন্ম নেয়া শিশুটির এই এই চিকিৎসাব্যায় বহন করা খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে পরেছে। নিজেদেরমত করে চেষ্টা করছে সন্তানকে বাঁচানোর জন্য।

স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে পাবনা, রাজশাহী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তেমন কোন লাভ হয়নি শিশুটির। চিকিৎসকগণেরা জরুরী ভিত্তিতে শিশুটির গুরত্বপূর্ন দুটি অপারেশন করানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। হ্নদপৃন্ড ও মূত্রনালীর গুরুত্বপূর্ন দুটি অপরারেশন করতে বেশ মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন তাদের। কিন্তু এই অর্থের যোগান দিতে পারছেনা অসহায় এই দরিদ্র পরিবার। তাইতো সরকারসহ সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যে আবেদন করেছেন অসহায় এই পরিবারটি।
স্থানীয়রা বলেন, প্রতিবেশি ও গ্রামের লোকেরা বসে সাহায্য সহযোগিতা করে তার ছেলেটির প্রাথম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাড়া করা ভ্যান চালিয়ে কোন রকমে দিন যাপন করে এই পরিবার। তার কাছে এমন কোন অর্থ সম্পদ নেই যে সেটা দিয়ে তার এই সন্তানের চিকিৎসা করাবে। সরকার একটু সহযোগিতা করলে বাচ্চাটা বাঁচে যাতো।

এই অসুস্থ্য শিশু মিজানুর রহমানের মা খুশি আরা খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, অনেক সাধনার পরে আমার পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে। কিন্তু বাচ্চাটা জন্ম গ্রহনের পর থেকে অসুস্থ্য। সারারাত কান্না করে পেটের ব্যাথায়। কত ডাক্তার দেখালাম কোন লাভ হচ্ছেনা। সবাই খালি অপারেশন করাবের কয়। কিন্তু আমারে তো এতা ট্যাকা পয়সা নাই কিভাবে চিকিৎসা করাবো। যা পয়সা করি ছিলো সব শেষ হয়েগেছে। এখন কবিরাজ দিয়ে দেখাচ্ছি। আপনারে কাছে একঠু সাহায্য চাই।

শিশুটির বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাই মানশির কাছ থেকে ভাড়া গাড়ি নিয়ে চালাই। যখন যে কাজ পাই সেই কাজি করি। কোন রকমে চলে যায় আমাদের। দুইটা মেয়ের পরে অল্লাহ আমারে একটা পুত্র সন্তান দেছে। জন্মের পর থেকে নানা রোগ ধরা পরেছে। ছেলেডাক বাঁচানের জন্যে সব চেষ্টাই করতিছি কিন্তু পারে উঠতিছিনে। বাচ্চাটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে কিন্তু সারারাত কাঁদে বুঝি কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু কি করবো। ঢাকার ডাক্তার দেখে বলেছে আমার ছেলের অপারেশ করা লাগবি। দুই আড়াই লাক্ষ টাকা ব্যায় করে আমার ছেলের চিকিৎসা খরচ চালানো আমার পক্ষে সম্ভব না। সরকারের খাছে আমি সাহায্য চাচ্ছি। রাবেয়ার রোকেয়ারমত যদি প্রধানমন্ত্রী আমারে দিক একটু নজর দিতো তাহলি আমার ছেলেটি বাঁচে যাতো। দেশের সকলের কাছেই আমার ছাওয়ালের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাই।

ঢাকা থেকে পাবনায় আসা এই শিশুটির চিকিৎসক ডাঃ মোঃ জামিল হোসেন (নিবজাতক শিশু ও কিাশোর সার্জন) জানান, জন্মগত ভাবে নানা রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছে এই শিশুটি। ইতমধ্যে শিশুটির দুটি প্রাথমিক অপরারেশ করেছি আমরা। শিশুটির বাবা দরিদ্র আমরাও যতটা কম খরচে তার চিকিৎসা করা যায় করেছি। কিন্তু শিশুটি জটিল রোগে আক্রান্ত। এই শিশুটির হ্নদপৃন্ডে ছিদ্র রয়েছে, মুত্রনালী দুটি, পায়ু পথের সমস্যা রয়েছে। তার অপারেশ করাতেই হবে। এই অপারেশন করারালে হয়তো শিশুটি স্বাভাবিক জীবন যাপণ করতে পারবে।
পাবনা সমাজ সেবা প্রবেশন অফিসার মোঃ পল্বব ইবনে শায়েখ বলেন, আপনাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রথম পর্যায়ে এই শশুটির হাসপাতালের ভর্তির সময় আমরা সাহায্য করেছি। এই শিশুটির চিকিৎসার জন্য আমরা সমাজ সেবার পক্ষ থেকে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েচিলাম। তার আবেদন করা আছে আমাদের কাছে। পরবর্তীতে এই শিশুটির হার্ট এর চিকিৎসার জন্য সরকারি ভাবে সহযোগিতার ব্যববস্থা করা চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করা এই শিশুটির পায়ুপথের নালা বন্ধসহ মুত্রনালী দুইটি। নাভির উপরে একটি বড় মাংস পিন্ড ছিলো। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম পর্যায়ে অপারেশ করিয়ে পায়ুপথ ও মাংস পিন্ট কেটে দিয়েছে। এই দুটি অপারেশন ধারদেনা করে করিয়েছেন পরিবার। কিন্তু এখানেই শেষ নয় শিশুটি আবার অসুস্থ্য হয়ে পরলে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও হ্নদরোগ হাসপাতালে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শিশুটির হ্নৎপিন্ডে ছিদ্র ধরা পরে। শিশুটির মূত্রনালী দুটিসহ রয়েছে হারনিয়ার সমস্যা। বর্তমানে শিশুটি ঠিকমত ঘুমাতে পারে না। সারারাত চিৎকার করে ব্যাথার যন্ত্রনায়। তাই অতিদ্রæত এই শিশুটির সুচিকিৎসার ব্যবস্থ্ াগ্রহণ করা হলে হয়তো বেঁচে যেতো শিশুটি। আবারো হাসিমুখ ফিরে পেতো বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যরা। তাইতো সরকারসহ সমাজের বৃত্তবানদের কাছে উন্নত চিকিৎসার আবেদন পরিবারের।

মোঃ মাসুদ রানা/বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর