করোনায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়েছে ৩০ শতাংশ

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের উর্ধ্ব গতিতেগতি পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত নাজুক হচ্ছে। রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের চেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭৭ জনের। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে ৮ এপ্রিল ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃত্যু ৯ হাজার ৬৬১।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৪৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জনে পৌঁছাল। এর বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত আরও তিন হাজার ৮৩৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এরমধ্য দিয়ে করোনা সংক্রমিত মোট ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। করোনা সংক্রমণের পর থেকে রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনা করে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনার ১৪তম সপ্তাহ চলছে। ১৩তম সপ্তাহের তুলনায় ১৪তম সপ্তাহে রোগটির কোন সূচকে কী পরিবর্তন হয়েছে, তা এই পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪তম সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। শনাক্ত বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সুস্থতাও বেড়েছে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মৃত্যুও বেড়েছে ৩০ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই চারটি সূচকের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা এবং সুস্থতা বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক এবং শনাক্তের হার ও মৃত্যু বৃদ্ধির বিষয়টি নেতিবাচক।

অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৪৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এসব ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৫ হাজার ১৮৫টি। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৭টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৯টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৭৭ জনের মধ্যে ৫৩ জন পুরুষ এবং ২৪ জন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫, রাজশাহী বিভাগে তিন, খুলনায় দুই, বরিশালে এক, সিলেটে এক ও রংপুরে করোনায় চারজন মারা গেছেন। মৃতদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বয়স বিশ্নেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে ৬০ বছরের ওপরে ৪৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দু’জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন এবং ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী একজন।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬৮৭ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৪৩ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৫৯৮ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৪৫ জন।

বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ২৫৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে এক হাজার ৮৬৮ জনকে। ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৩৯৬ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ জনকে। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ছয় লাখ ২৪ হাজার ৪৮৮ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৬ হাজার ১১২ জন।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর