বাঁশ ও সিমেন্ট দিয়ে মডেল পদ্মা সেতু বানিয়েছে স্কুল শিক্ষার্থী

ঢাকার ধামরাইয়ে মাটি, বাঁশ ও সিমেন্ট দিয়ে পদ্মা সেতুর আদলে সেতু তৈরী করে যথারীতি চারদিকে সাড়া ফেলছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগ মিয়া।

তার তৈরি করা এ সেতু দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছে তার বাড়ির আঙিনায়। না দেখা পদ্মা সেতু যেনো সোহাগের তৈরি সেতু দেখে স্বাদ মেটাচ্ছে মানুষ।

সোহাগ মিয়া ধামরাই থানার সুতিপাড়া ইউনিয়নের মো. সুলতান আলীর ছেলে। তার বাবা পেশায় একজন কৃষক। তিনি (সোহাগ) ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল ও কলেজে দশম শ্রেণীতে ব্যবসা শাখায় অধ্যয়নরত।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সোহাগ তার নিজ বাড়িতে প্রায় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর রূপে একটি সেতু তৈরি করেছেন। এ সেতুটি তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন সিমেন্ট,বাঁশ,মাটি ও রঙ। এগুলো দিয়ে তৈরি সেতুর রূপ দিয়েছে অবিকল পদ্মা সেতুর। তার তৈরি সেতুটি খুব সহজে যে কাউকে মোহিত করে তুলবে। সেতুটি তার গ্রামবাসী ছাড়াও দূর দূরান্তে থেকে অনেক মানুষ দেখতে ভিড় করছে তার বাড়ির আঙিনায়। সেতুটি নির্মাণ কাজ শুরু করলে তার মা-বাবা তাকে বকাঝকা করত এমনকি কেউ তাকে আর্থিক সহযোগীতা করেনি। সে তার জমানো টাকা দিয়ে কিছু কিছু জিনিস পত্র ক্রয় করে কাজটি করেছেন। সেতুটির রূপ পদ্মা সেতুর আকৃতি হওয়ায় এখন মা বাবাসহ এলাকবাসী খুশি।

সেতুটির নির্মাতা সোহাগের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে এ সেতুটির কাজ শুরু করে। এর আগেও তিনি একটি সেতু নির্মাণ করেছিলো কিন্তু সেতুটিতে শুধু মাটি ব্যবহারের ফলে সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর অবিকল পদ্মা সেতু তৈরি করার চিন্তা করে। যে চিন্তা সেই কাজ, গত বছরের ১ নভেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ২৬ মার্চ তার পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

বাশ ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি পদ্মা সেতু। ছবি-সংগৃহীত

সোহাগ জানান, পদ্মার আদলে সেতুটি নির্মাণে সে ব্যবহার করেছে সিমেন্ট, মাটি ও বাশ। এছাড়া আলোকসজ্জার জন্য ব্যবহার করেছে মোবাইলের ছোট ছোট বাতি। সেতুর সৌন্দর্য বর্ধনে সাদা কালো রঙ। সেতুটিতে রয়েছে, চারটি লেন, সেতুর নিচ দিয়ে রেললাইন। নিচে মাটি খুঁড়ে রূপ দেওয়া হয়েছে পদ্মা নদীর। দুই লেনের মাঝখানে রয়েছে ফুলের চারা। সেতুর এক প্রান্তে রয়েছে চেকপোস্ট। এক কথায় সেতুটি দেখে মন ভরে যায় দূর দূরান্তে থেকে আসা দর্শনার্থীদের।

সোহাগ জানান, যে দিন পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয় সেদিই আমি সিদ্ধান্ত নেই আমিও একটি পদ্মা সেতু বানাবো। কিন্ত সেতু তৈরিতে যে নকশা লাগে তা আমার কাছে ছিলো না এমন কি সংগ্রহ করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থও ছিলো না। তাই দৃইবার নির্মাণ করা আমার সেতু ভেঙে গিয়েছে। এরপরে আমি ইন্টারনেট হতে পদ্মা সেতুর নকশা সংগ্রহ করি। এরপর হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে বাবা-মা অনেক বকাঝকা করতো। আশপাশের মানুষও কটু কথা বলতো। কিন্তু আমি আমার মত কাজ করেছি। আজ মানুষ এসে ভিড় করছে সেতুটি দেখার জন্য। এতেই বাবা-মা অনেক খুশি। আমারও ভালো লাগছে। তবে আরও ভালো কিছু করতে চাই।

তার স্বপ্নের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোহাগ জানান, আমি বড় হয়ে একজন উচ্চমানের ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। দেশের কোনো সেতু তৈরিতে যেন বিদেশিদের সহযোগিতা প্রয়োজন না হয়, সেজন্য আমি প্রস্তুত হতে চাই। দেশসহ বিদেশে গিয়ে কাজ করতে পারি এমন একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর