ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন আজিমনগর ও কালামৃধা। অভিযোগ আছে, লুঙ্গিপড়া থেকে শুরু করে প্যান্ট পরিহিত স্বশিক্ষিত অসংখ্য যুবক সক্রিয় সদস্য ওয়েলকাম প্রতারণা ব্যবসায়। বিভিন্ন সময়ে এলিটফোরস বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে এসব প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। গণমাধ্যমে ওয়েলকাম পার্টি বা বিকাশ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেফতারের খবর প্রচারের পর ওয়েলকাম পার্টির বিশেষ উপজেলা হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন আজিমনগর-কালামৃধা।
গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, ওয়েলকাম পার্টি ও বিকাশ প্রতারক চক্রের অপরাধীদের হাওয়াই টাকার দাপটে প্রকৃতির ছায়াঘেরা দুটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল পাত্রাইল গ্রামের জসিম মাষ্টার ও কালামৃধার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক গ্রুপে। আধিপত্য বিস্তার করতে তারা অতি তুচ্ছ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত এক পক্ষ অন্যে পক্ষের ওপর। রক্তক্ষয়ী সংঘাতে বিবদমান দু’টি গ্রুপের সংঘাতের কারণে ভয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছিল এলাকার সাধারণ মানুষ।

অবশেষে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন দাঙ্গা ফ্যাসাদের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পুলিশকে কঠোর বার্তা দিলে জসিম মাষ্টার গ্রুপ ও সাবেক চেয়ারম্যান গ্রুপে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশীয় সকল অস্ত্র পুলিশের কাছে জমা দিতে ঐক্যমতে পৌঁছায়। তার শপথ নেন আর এলাকায় আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না।
তাদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে শনিবার সকালে আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন,ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ লুতফর রহমানও আজিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান মতালেব হাওলাদারের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে শতাধিক দেশীয় অস্ত্র জমা দেয় জসিম মাষ্টার ও নুরুল হক গ্রুপ।

তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আজকের এই স্মরণীয় দিনটির মধ্য দিয়ে বিবদমান দু’টি গ্রুপের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংঘাতের অবসান যেন অটুট থাকে। তাহলে ফিরে আসবে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা।
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/ভি.এস