৮ বছর যাবৎ স্কুলে না গিয়ে নিয়মিত বেতন তুলছেন এক সহকারি শিক্ষক। ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ’র। অভিযোগ ওঠেছে সরকারি কর্মচারী আচারণ বিধিমালা লংঘন করে শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ স্কুলে না গিয়েই নিয়মিত বেতন ভাতা তুলছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষক অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক এর আপন এর অজুহাতে এমন কান্ড করছেন।
শনিবার (১০ এপ্রিল) সরেজমিনে গেলে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ঢাকার মিরপুর-১ এর শাহা আলী বাগ কলওয়ালপাড়ায় তার নিজস্ব সুতা রং করার কারখানা পরিচালনা করেন। এলাকায় আসেনা বললেই চলে।
ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, জাহাঙ্গীর হোসেনকে আমরা কখনও স্কুলে দেখি নাই। তবে এটা শুনেছি যে তিনি নাকি স্কুলে না এসেই নিয়মিত বেতন ভাতা তোলে ঢাকা থেকে।
অত্র প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, কাগজে কলমে হাজিরা তাঁর ঠিক থাকলেও সে কোনদিন স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। ক্লাস রুটিনে তার কোন নামও নেই।
এমন ঘটনা স্থানীয় মহলে বেশ সমালোচনা হলে কৈজুরি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. হারুনার রশিদ সম্প্রতি জনস্বার্থে এমন অনিয়ম দূর্ণীতির বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসার ও দূর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
জানা যায়, ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ হোসেন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন সরেজমিন তদন্ত শুরু করেন। ওই দিন উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্থানীয়দের জানান এটা প্রাথমিক তদন্ত।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আরও গভীর ভাবে বিষয়টি জানার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অপরদিকে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঢাকার ব্যবসা আমার না, ওটা আমার ভাইয়ের। তিনি পূর্ব চরকৈজুরি নতুনপাড়া মোর্শারফিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার সুপার মওলানা মো. মোস্তফা কামাল। আমি মাঝে মধ্যে সেখানে গিয়ে দেখা শোনা করি। তাছাড়া চাকরির পাশাপাশি অনেকেই তো ব্যবসা বাণিজ্য করেন। আমি করলে দোষ কোথায়?
অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদন্ত চলছে, তাই এ সম্পর্কে এখন আমি কিছু বলতে পারবো না।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি