লক্ষ্মীপুরে ফসল হারিয়ে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা
নাব্য সংকট মোকাবেলায় নদী খননে অপরিকল্পিত ড্রেজারের কারণে লক্ষ্মীপুরের চররমনীতে পানিতে তলিয়ে গেছে দুইশ একর সয়াবিনের ক্ষেত। পঁচে গেছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সয়াবিন। এসব ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পথে বসারে উপক্রম স্থানীয় চরের কৃষকরা। ক্ষতি পূরণের দাবী তাদের।
তারা জানান, আর মাত্র ৩০ দিন পর তাদের ক্ষেতের সয়াবিন ঘরের তোলার কথা। তবে কৃষকের সে স্বপ্ন আর পূরণ হলোনা। ড্রেজারের পানিতে তলিয়ে গেছে দুইশ একর জমির প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সয়াবিন। লক্ষ্মীপুর সদরের পশ্চিম চররমনী মোহন কয়েক লক্ষাধিক টাকা ঋণ কর্জ করে সয়াবিনের চাষ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় প্রতিটি গাছে সয়াবিনের ফলন ও হয়েছে ভালো। কিন্তু নদী খননে অপরিকল্পিত ড্রেজারের কারনে সেই সয়াবিন নিমিষেই পানিতে ডুবে পঁচেগেছে। এতে সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
জানাগেছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ-রুটে নাব্যসংকটের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সরকার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার নদী খননের কাজ করে আসছে গত বছর থেকে। কাজটি পায় বঙ্গ ড্রেজিং লিমিটেড নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কৃষকের আবাদকৃত জমির পাশে বাঁধ দিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খননের ওই বালি-মাটি পানি সহ জমাট বদ্ধ করে রাখা হয়। অপরিকপল্পিত ভাবে বালি মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পানি প্রবাহ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে বাঁধের ভিতরের থাকা নোনা পানিতে ডুবে যায় কৃষকদের দুইশ একর সয়াবিনের ক্ষেত। পঁচে যায় অর্ধ কোটি টাকার সয়াবিন।
কৃষকদের অভিযোগ, তাদেরকে চাষাবাদের উপর কোন বিধি নিষেধ ঘোষণা না দিয়েই নদী খনন করে ড্রেজিং কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ফসল করা যাবে কি যাবেনা এমন কথাও বলেনি কেউ। তারপরও ফসলের ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় কৃর্তৃপক্ষকে আপাতত ড্রেজিং না করার জন্য অনুরোধ করেছে তারা। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলার পর ড্রেজিং করতে একাধিক বলা হয়েছে বলে দাবী তাদের। কিন্তু তারা তা কর্ণপাত করেনি। ফসল হারিয়ে মানবেতর জীবন চাষীদের। ক্ষতি পূরণের দাবী জানান তারা।
এদিকে কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে স্বীকার করেন কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি তাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে একটা সমাধাণের আশ্বাস দেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকার প্রকৌশলী সৈয়দ রাসেল।
শাকের মোহাম্মদ রাসেল/বার্তাবাজার/পি