মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা কমপক্ষে ৬০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। অনলাইন রেডিও ফ্রি এশিয়ার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারের বাগো শহরে নিরস্ত্র জনতার ওপর রাইফেল গ্রেনেড ও মেশিনগান থেকে গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এতে বাগো’তে রক্তের বন্যা বয়ে গেছে। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেডও তুলে নিয়েছে তারা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী বাগো শহরের ওথার থিরি ওয়ার্ডের রাস্তায় বৃষ্টির মতো বুলেট ও গ্রেনেড ছুঁড়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমাদের এলাকার লোকজন জানত ওরা আসবে এবং এর জন্য রাতভর অপেক্ষা করছিল।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী এসেই ভারি অস্ত্র ব্যবহার করে। এমনকি আমরা মর্টার শেল নিক্ষেপের শব্দ পেয়েছি। মেশিরগান থেকে প্রচুর গুলি করা হয়েছে। এ সময় তারা গ্রেনেড লঞ্চার ব্যবহার করছিল।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, রাস্তা ফাঁকা করতে সাধারণ পথচারীদের দিকেও গুলি করেছে সেনারা। স্থানীয় সময় রাত ৮টা নাগাদ তারা মাত্র তিনটি মৃতদেহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। বাকিগুলো সেনারা নিয়ে গিয়ে জেয়ামুনি প্যাগোডা এবং কাছাকাছি একটি স্কুলে জড়ো করেছে।
ওই শহরে সারাদিনই নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গুলি ছুঁড়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে রাষ্ট্রপরিচালিত মিয়ানমার রেডিও ও টেলিভিশনের (এমআরটিভি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জান্তা সরকার শুক্রবার ১৯ বেসামরিক লোককে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত মাসে ইয়াঙ্গুনের ওক্কালাপা এলাকায় সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেন ও অন্য একজন ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ এনে তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ ১৯ আসামির নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক।
আরএফএ’র হিসাবে, মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/নব