‘শালাদের বাড়িঘর ভাঙচুর কর’ বলেই ছাত্রলীগ নেতার হামলা
লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমানের বোন বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের নামে। হামলাকালে তিনি তার অনুসারীদেরকে ‘শালাদের বাড়িঘর ভাংচুর কর’ বলে আদেশ করেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতার বোন ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় শুক্রবার (৯ এপ্রিল) একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ সন্ত্রাসী দলবদ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে আমার বাড়িতে হেফাজত স্টাইলে আক্রমণ এবং ভাংচুর চালায়। এ সময় বক্কর তার গুণ্ডা বাহিনীকে হুকুম দিয়ে বলে ‘শালাদের বাড়িঘর ভাংচুর কর’। এরপরই লাঠি, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, হকিস্টিক, ধারালো ছোড়া এবং রাম দা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক তাণ্ডব।
এ বিষয়ে ফাতেমা বেগম বলেন, বক্করের হুকুমের পর অপর আসামি নিরব আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করতে আসে। পরে আমি প্রতিহত করলে লাঠির আঘাতে বাম হাতের কনুইতে আঘাত পাই। এছাড়াও বক্করের সঙ্গী-সাথীরা আমার হিজাব এবং পরনের পোশাক ধরে টানাটানি করে। এরপর আমার বাড়িতে অবস্থান করা দোয়া ইউনুস পাঠরত অবস্থায় থাকা অন্য মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়।
জানা যায়, আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ছায়াতলে থাকা স্থানীয় কিশোর গ্যাং-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এদের মধ্যে অনেকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
কিশোর গ্যাং-এর একাংশকে পরিচালনা করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর এবং অপর অংশকে মামলার বাদী ফাতেমা বেগমের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সবুজ। দুই পক্ষের বিরোধের জেরেই লালমনিরহাটের সাহেব পাড়ায় এবার এমন ঘটনা ঘটল।
তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর বলেন, মামলার বিষয়টি এখনো জানি না। আমার ওপর আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আমাকে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করতেই প্রতিপক্ষরা আমার পেছনে লেগেছে।
মামলা দায়ের প্রসঙ্গে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা বাজার/এসজে