চট্টগ্রামের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বেশিরভাগই মার্চ মাসের বেতন পাননি। নিয়ম অনুযায়ী মাসের শেষেই তারা বেতন পেয়ে থাকেন। সরকারের সমন্বিত বাজেট এবং হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থায় (আইবাস) ত্রুটির কারণে চিকিৎসকদের বেতন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই করোনায় ঝুঁকি নিয়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাওয়া চিকিৎসকরা বেতন পাওয়া নিয়ে গত বছরের মতো এবারও শঙ্কায় পড়েছেন চট্টগ্রামের চিকিৎসকরা। গত বছরও তারা তিন মাসের বেতন নিয়ে সঙ্কটে ভুগেছে বলে অভিযোগ ওঠেছিল। সেসময় বাজেট সমস্যার পাশাপাশি আইবাস জটিলতার কথা বলেছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘আইবাস-এ ইনপুটজনিত ত্রুটির কারণে কিছু চিকিৎসক মার্চ মাসের বেতন এখনও পাননি। খুব শিগগিরই এ সমস্যা কেটে যাবে এবং চিকিৎসকরা তাদের বেতন পেয়ে যাবেন।’
তবে একাধিক চিকিৎসক এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু সঠিকভাবে বেতন পাচ্ছি না। করোনার মধ্যে গত বছরও তিনমাস আমাদের বেতন আটকে ছিল।’
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ২০৪ জন। এদের মধ্যে উপজেলায় রয়েছেন ৪৭২ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৫০ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৩০৫ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ৩৫০ জন এবং ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে রয়েছেন ২৭ জন চিকিৎসক। এদের মধ্যে বেশিরভাগ চিকিৎসক এখনও মার্চের বেতন পাননি।
হিসাব নিয়ন্ত্রক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, আইবাস মানে হল ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম। বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত বাজেট এবং হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা। এটি ইন্টারনেটভিত্তিক সফটওয়ার। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের বাজেটপ্রণয়ন, বাজেট বাস্তবায়ন যেমন- বরাদ্দ বিভাজন, অর্থ অবমুক্তি, বাজেট পুনঃউপযোজন, অনলাইনে বিল দাখিল এবং তার বিপরীতে চেক বা ইএফটির মাধ্যমে অর্থ প্রদান, রাজস্ব জমার হিসাবরক্ষণ, স্বয়ংক্রিয় ব্যাংক হিসাব সমন্বয় ইত্যাদি আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম