সালথায় তাণ্ডব: আ’লীগের শীর্ষ ৭ নেতার ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানোর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৭ শীর্ষ নেতা।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের সালথায় পৌঁছায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ওই সাত শীর্ষ নেতার প্রতিনিধি দল।

সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক খান, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, আ,ফ,ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস,এম কামাল ও মির্জা আজম।

নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, বাসভবন ও ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এসময় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলায় একটি প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এসময় তারা বলেন, সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতের সাথে তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা জড়িত। এদেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানানোর ষড়ডন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে। পরে তারা এঘটনার সাথে যারা জড়িতদের তদন্ত করে খুঁজে বের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে মানুষ ছুটাছুটি করে। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়।
মানুষের ভীড় দেখে এসিল্যান্ড ফুকরা বাজার থেকে চলে আসেন। পরে হেফাজতের জনৈক এক আলেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও থানায় এই তান্ডব চালায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারিরা তিন ঘন্টাব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তান্ডবচলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পর্ণ পুড়িয়ে দেয় তারা।

এছাড়াও সাংবাদিকের একটি মোটর সাইকেলসহ তিনটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৮৮ রাউন্ড শট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২ টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছুড়ে। এসময় পুলিশ ও র‌্যাবের ৮জন সদস্য আহত হয়।

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর