মৃত ব্যক্তির সকল খরচ বহন করে প্রশংসায় ভাসছেন মানবিক ওসি জাহাঙ্গীর!

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অর্জনের পাল্লা,সুনামের খাতা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সময়ে সময়ে আলোচনা-সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশি মুখরোচক হয়ে ওঠে। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারা যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই তা আমরা ভুলে যাই। দু-একজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করি আমরাই। তবে পুলিশ বিভাগে রয়েছে হাজারো মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মতো মানবিক পুলিশ অফিসার।

যারা সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার মতো মানবিক কাজগুলোও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরও সাধারণ মানুষের খোঁজ নেয়া কয়জনই বা করার সুযোগ পান। কথাগুলো যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তিনি হলেন চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে তার নৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে কাজ করে যাচ্ছেন চারঘাট থানার পুলিশ সদস্যরাও। জাহাঙ্গীর আলম শুধুমাত্র থানার পুলিশদের জন্য কাজ করে ক্ষান্ত হননি। তিনি নিরলস ভাবে এই উপজেলার অসহায় মানুষদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

করোনা কিংবা কোভিড-১৯ নামে এক ঘাতকের আঘাতে পৃথিবী যখন অচেনা। পূর্ব থেকে পশ্চিম কিংবা উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুরো গ্রহটাই যেন লন্ডভন্ড। ছোঁয়াচে এক অদৃশ্য জীবাণুর কারণে সবাই ভয়ে তটস্থ। আপন মানুষগুলোও যেন পর হয়ে গেছে। প্রিয়জনও দূরে সরে গেছে। এর মধ্যে ব্যতিক্রমও রয়েছে। মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে অন্যের সাহায্যে ছুটে চলেছেন জাহাঙ্গীর আলম।

একজন নেতা যেমন কর্মীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যান, একজন কোচ যেভাবে কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে শিষ্যের কাছ থেকে সেরাটুকু বের করে নিয়ে আনেন একইভাবে তিনি জুনিয়র অফিসারদের কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে কাজ করিয়ে নেন।

শত বিপদে, প্রতিকূলতার মধ্যে যিনি বট গাছের ন্যায় আগলে রাখেন অধীনস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, সদস্যদের। ভালোবাসায় মুগ্ধ হন সাধারণ মানুষও।

সম্প্রতি রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানার আওতাধীন হলিদাগাছি ২নং আবাসনের বাসিন্দার মৃত- মাহাবুর (৪৫), পিতা-মৃত মুনসুর রহমানের ছেলে গতকাল বুধবার (৭ এপ্রিল) রাত্রি আনুমানিক ১১টার সময় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেলে পরিবারের লোকজন দারস্থ হয় চারঘাট মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের। এসময় ঘটনাটি তদন্ত করতে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিজে উপস্থিত হয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর বাসায় ফিরেন।

তবে উল্লেখ্য, তদন্ত করতে গিয়ে মৃত- মাহাবুরের পারিবারিক অসচ্ছলতা ও তাদের অসহায়ত্বের কথা শুনে ঐ রাতেই নিজের পকেট থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি এবং দাফন সম্পন্ন করতে কাফনের কাপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমন মানবিক কাজের মাধ্যমে সবমহলেই প্রশংসায় ভাসছেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম।

থানায় আসা একব্যক্তির সাথে কথা হলে তিনি জানান, সম্প্রতি আমার বাড়ির একটা সমস্যা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলাম। সমস্যা সমাধানে স্যারের আন্তরিকতার কোন অংশে কমতি ছিল না। আমার দেখা পুলিশ অফিসারের মধ্যে সেরা এই স্যার। যদি বলি একজন মানবিক অফিসার, যদি বলি একজন নিষ্ঠাবান অফিসার, যদি বলি একজন অসাধারণ ভালো মানুষ, সব বিশেষণ স্যারের সঙ্গে মিশে আছে। জানতাম না এতো মানবিক অনুভূতির পুলিশও আছে।

এ সকল বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইনের সেবক হয়ে জনতার সাড়িতে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবো, প্রতিটি মানুষ আমাকে খুব কাছ থেকে পাবে এবং তাদের সমস্যার কথা গুলি বলতে পারবে ঠিক তেমন ভাবে আমি চারঘাট উপজেলা বাসির জন্য কাজ করব।

একজন সাধারণ মানুষ যখন আইনের সেবকদের কাছে ন্যায় বিচার পাবে ঠিক তখনি মানুষের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস জেগে উঠবে। আমি মনে করি সাধারণ মানুষ যখন আমাদের কাছে আসতে পারবে ঠিক তখনি তারা অন্ধকার জীবন থেকে আলোর পথে ফিরে আসবে, একজন পুলিশের কাছে সেটাও সম্ভব একজন অপরাধি কে ঘৃণার দৃষ্টিতে না দেখে আইনের মাধ্যমে তাকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে আলোর পথে নিয়ে আসা। আমরা চেষ্টা করতে পারি তাকে ভালো করার সুযোগ দেয়ার। আপনারা আমাদের সাহায্য করুন আমরা সত্যিই মানুষের স্বপ্নের পুলিশ হতে চাই।

এসময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ২০৪১ সালে আমরা যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি সে উন্নত বাংলাদেশের আমরাই হবো উন্নত পুলিশ।

বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর