মামুনুল হকের চরিত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ চান তসলিমা নাসরিন!

নারী নির্যাতন, নারী হেনস্তা, নারীর সঙ্গে প্রতারণা বাংলাদেশের বদ পুরুষলোকেরা অহরহই করে। মামুনুল যেহেতু নেতা, যেহেতু তার আদেশে লক্ষ পঙ্গপাল চারদিক পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, নিজেরা শুধু খুন করতে নেমে পড়ে না, নিজেরা খুন হতেও নেমে পড়ে, …সেহেতু মামুনুলের চরিত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ জরুরি। পঙ্গপালগুলোর জানা জরুরি কোন নিকৃষ্ট লোকের, কোন প্রতারকের, মিথ্যুকের, কোন স্বার্থান্ধ বদলোকের আদেশ তারা মেনে চলে। হয়তো যারা অন্ধভক্ত, তাদের কোনও বোধোদয় হবে না। কিন্তু যারা এখনও অন্ধ হয়নি, তাদের তো পরিবর্তন হতে পারে।

মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা তো অপরাধ, মামুনুল তো সেই অপরাধ করছেনই, সবচেয়ে বড় অপরাধ তিনি করছেন, তাঁর ওয়াজে তিনি প্রগতির বিরুদ্ধে, মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে, নারীর বিরুদ্ধে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ বিষ উগড়ে দিচ্ছেন, সেই বিষের ক্রিয়ায় শত শত শিশু কিশোর যুবক হিংস্র দাঙ্গাবাজ হয়ে উঠছে। যুবসমাজকে তিনি সন্ত্রাসবাদে আর জঙ্গিবাদে দীক্ষিত করছেন-এটি নিশ্চিতই তাঁর অক্ষমাযোগ্য অপরাধ। এই তো সেদিন তিনি মাদাসার ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়েছেন সারাদেশজুড়ে সন্ত্রাস করার জন্য। সন্ত্রাস করেছে তারা, দেশের অমূল্য সব সম্পদ পুড়িয়ে দিয়েছে, শুধু তাই নয়, নিজেরাও মরেছে। জেনেবুঝে দেশ ও মানুষের সর্বনাশ করা খুব বড় অপরাধ। এই অপরাধের কারণে মামুনুল হকের শাস্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কারণে মৃত্যু হলো ভক্তকুলের, কোথায় তিনি নিজেকে তাঁদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে গ্লানিবোধ করবেন, কোথায় তিনি কাঁদবেন, হাহাকার করবেন, তিনি চলে গেলেন আনন্দ করতে। তারপরও কি ভক্তকুল তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ হবে না? গুরুর চরণামৃত খেয়ে গুণগান গাওয়া ছাড়া আর কিছু ভক্তকুলের মগজে ঢোকানো হয়নি।

তবে মামুনুলকে নিয়ে হেফাজতি অন্য নেতাদের মধ্যে কিছু অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁরা যদি কখনও মামুনুলকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন, তাহলে কি এই সংগঠনকে কোনও সভ্য সংগঠন হিসেবে দাঁড় করানো সম্ভব হবে? আমার তো মনে হয় না। মামুনুলের মতো প্রতারক যদি নাও হন, হেফাজতি নেতারা সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করেন, এ কথা সত্য। এ পর্যন্ত হেফাজতের নেতারা মাদরাসার শিশু-কিশোরদের দিয়ে দেশজুড়ে সন্ত্রাস ঘটানোর জন্য ক্ষমা চাননি, দুঃখ প্রকাশও করেননি। তবে কী কারণে মামুনুল হককেই একা মন্দ বলে মনে করছি? ভারতের দেওবন্দিরা কোনও দাঙ্গা ফ্যাসাদ ভায়োলেন্সে যায় না। কিন্তু দেওবন্দি আদর্শ মেনে চলা বাংলাদেশের হেফাজতে ইসলাম, আফগানিস্তানের তালিবান, পাকিস্তানের লস্করে ঝাংভি, সিপাহে সাহাবা, তেহরিকে তালিবান দিব্যি সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছে। পাকিস্তানে সিপাহে সাহাবা সংগঠনটি নিষিদ্ধ হয়েছে। বাকি সব সন্ত্রাসী সংগঠনই নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।-বাংলাদেশ প্রতিদিন। (সংক্ষেপিত)।

লেখিকা- তসলিমা নাসরিন, নির্বাসিত লেখিকা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর