মাদারীপুরের জনসেবামূলক আবহাওয়া অফিস এখন ‘অবহেলার প্রতিষ্ঠান’
মাদারীপুর আবহাওয়া অফিস এখন অবহেলার প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়েছে। সরকারের জনগুরুত্ব সেবামুলক সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটি নিজেই নানা সমস্যার আবর্তে পড়ায় এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ আবহাওয়া অফিস নানা সমস্যা নিয়ে সময় অতিবাহিত করলেও সমস্যা নিরসনে পড়েনি সরকারের নজরদারী। ফলে জনসাধারন কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কমচারীদের পেশাগত দায়িদ্ব পালনে অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবহাওয়া অফিসের মুলভবনটির মেঝেতে জায়গাটি স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় মেঝের একটি কক্ষ এবং দোতলায় অফিসিয়াল কাজ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। মুলভবনের অনেকাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়েছে। দেওয়াল চুনকাম রং উঠে গিয়ে বিবর্ন ও শ্যাতশ্যাতে হয়ে গেছে। বৃস্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে অফিসের যন্ত্রপাতি প্রয়োজনী গুরুত্ব কাগজপত্র ভিজে নস্ট হয়ে যায়। মুল ভবনটিও পরিত্যক্ত ঘোষনা করা না হলেও এ ভবনে অফিসিয়াল কাজকর্ম করা এখন প্রতিনিয়ত ঝুর্কিপুন হয়ে পড়েছে। সামান্য ভুমিকম্পন, ঝড়োহাওয়া সাইক্লোন হলে এ ভবনে রীতিমত আতংকের মধ্যে কাজ কর্ম করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশংকা থাকছেই।
মাদারীপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বার্তাবাজারকে জানান, ১৯৭৪ সালে মাদারীপুর শহরের কুশপদ্দি এলাকার বকুলতলায় তৎকালীন প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার শ্রী বলরাম সাহার ১ একর ৩৪ শতাংশ জমি কেনা হয়। এবং ওই জমির উপর নির্মিত পুরনো ভবনই মাদারীপুর আবহাওয়া অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অদ্যাবধি ওই ভবনেই চলছে অফিসের কাজ। সময়ের ব্যবধানে ভবনটি ক্রমশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মুল ভবনের সামনে সংযুক্ত ৪০ ফুটের তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি ছোট ভবন ৮০ সালে সরকারীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষনা করে ভবন অপসারনের জন্য সরকারীভাবে টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। তবে যথাযথ মুল্য না পাওয়ার আশংকায় পরিত্যক্ত ওই ভবন ভাঙ্গা হয়নি।
অফিস ইনচার্জ আরো জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অফিসের ৮ জনের পদ থাকলেও কর্মরত আছে ৫ জন। এরমধ্যে একজন বর্তমানে অসুস্থ্য আছে। চতুর্থ শ্রেনীর কোন কর্মচারী নাই। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় সার্বক্ষনিক প্রধান ফটক বন্ধ রাখতে হয়। পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় অফিসের অভ্যন্তরে প্রায় অপরিচ্ছন্ন থাকে। এবং বাইরে চলাচলের রাস্তায় ঝোপ জঙ্গল তৈরী হওয়ায় বিশাক্ত সাপের আতংক রয়েছে। নতুন ভবন নির্মানের দাবী জানিয়ে অনেকবারই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও কোন আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের নির্জন পরিবেশে অবস্থিত এ আবহাওয়া অফিসের এরিয়ায় বিকেলে ও সন্ধার পরে মাদকসেবিদের আনাগোনা শুরু হয়। সন্ধার পরে মাদকসেবিরা মদ গাজা সেবন করার ফলে আবহওয়া অফিস এরিয়াটি মাদকসেবিদের অভয়ারান্য পরিবেশ তৈরী হয়েছে। এদের মহরায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা। এসব মাদকসেবিদের অপতৎপরতা রোধে পুলিশের একটি টিম কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল।
এদিকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বার্তাবাজারকে বলেন, বিষয়টি শুনলাম। ঝুকিপুর্ন আবহাওয়া অফিসটি আমি পরিদর্শন করবো। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/ভি.এস