সারাদেশ চলছে লকডাউন রাস্তায় নেই গণ পরিবহণ। এর আগের দুদিন রাস্তায় বাসই ছিলো না। আজ শুধু সিটিতে কিছু থাকলেও রাজধানীতে আগের মতো তেমন কোনো ভিড় দেখা যায়নি। বইমেলার পরিস্থিতিও ছিল একই রকম। চৈত্রের কাঠফাটা রোদের দুপুরে মেলার দরজা খুললেও পাঠক কিংবা ক্রেতার দেখা নেই।
নিয়ম রক্ষা করে দুপুর ১২টায় মেলা খুলছে ঠিকই। এরপর বিক্রেতাদের স্টলে বসে থাকা ছাড়া কোনো কাজ নেই। রোদের তাপ কমে এলে তিনটার পর একজন-দুজন করে লোক মেলার মাঠে আসতে থাকেন। পাঁচটায় মেলা বন্ধ। শেষ ঘণ্টাখানেক কিছু তরুণ-তরুণীর আনাগোনা দেখা যায় মেলার মাঠে। তাঁদের শতকরা ১০ জনও বই কেনেন না। আসেন বেড়াতে।
ছোট প্রকাশকদের খুবই খারাপ অবস্থা। বেচাকেনা শূন্য, মেলা খোলা বলে স্টল খুলতে হচ্ছে, কমপক্ষে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ প্রতিদিন। ম্যাগনাম ওপাসের প্রকাশক আনোয়ার ফরিদী আজ মেলার মাঠে গণমাধ্যমকে বললেন, একেবারেই অসহ্য পরিস্থিতি। গত তিন দিনে ১০০০ টাকার বইও বিক্রি হয়নি তাঁর স্টলে। দুজন কর্মচারী। রোজ তাঁদের ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এর ওপর বিকেলের নাশতা আর তাঁর নিজের যাতায়াত খরচ মিলিয়ে রোজ হাজার টাকার ওপরে খরচ। লোকসানই যদি হচ্ছে তবে কেন স্টল খুলছেন? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভয়ে। স্টল বন্ধ করে দিলে আগামী বছর হয়তো স্টলের বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। সবার মনেই এই ভয় কাজ করছে। এ জন্যই ক্ষতি মেনেও স্টল খোলা রাখছেন সবাই।’
পাঞ্জেরি পাবলিকেশনসের প্যাভিলিয়নে কথা হলো ব্যবস্থাপক মো. নুরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, বইমেলার একটা বড় ক্রেতা আসেন ঢাকার বাইরে থেকে। ঢাকায় অনেক বইয়ের দোকান আছে, সেখান থেকে সারা বছরই পাঠকেরা সৃজনশীল বই কিনতে পারেন।
কিন্তু ঢাকার বাইরে মফস্বল শহরগুলোতে সৃজনশীল বইয়ের দোকান বলতে গেলে নেই। যেসব বইয়ের দোকান আছে তাতে মূলত পাঠ্যবই আর নোট-গাইড বিক্রি হয়। কোনো কোনো দোকানে জনপ্রিয় লেখকদের কিছু উপন্যাস-কবিতা আর ধর্মীয় বই পাওয়া যায়। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঠকেরা বইমেলার সময় তালিকা নিয়ে ঢাকায় আসেন পছন্দের বই কিনতে।
মেলার মোট বেচাকেনার একটা বড় অংশ তাদের ওপর নির্ভর করে। এবার এই ক্রেতারা মেলায় আসেননি। আবার করোনার কারণে ঢাকার ক্রেতারাও মেলায় আসতে তেমন আগ্রহী হননি। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে মেলা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রতিদিন প্যাভেলিয়নগুলো চালাতে যে খরচ হচ্ছে, সে খরচই উঠছে না।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম