টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) নতুন করে ২১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৪১৭৭ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় সোমবার (৫ এপ্রিল) পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়েছেন ৯৬ হাজার ২৮৬ জন। জেলার মোট ৪২টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৬৭ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৩১, ঘাটাইলে ৮, মির্জাপুরে ৭, দেলদুয়ার ৪, ধনবাড়ীতে ৩, কালিহাতীতে ৩, গোপালপুরে ২, ভুঞাপুরে ২, সখীপুরে ২, বাসাইলে ২, মধুপুরে ২ ও নাগরপুরে ১ জন রয়েছে। মৃত্যুর হার ১.৬১ ভাগ।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৬, গোপালপুরে ৬, দেলদুয়ারে ৫, সখিপুরে ২, কালিহাতীতে ১ ও ঘাটাইলে ১ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৭৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দ্বিতীয় দফা সারাদেশ সহ টাঙ্গাইলে লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউনের ২য় দিন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৮ জন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান বার্তা বাজারকে জানান, এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় ৪১৭৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১৫৮৩, মির্জাপুরে ৬০৯, কালিহাতীতে ২৮৬, ঘাটাইলে ২৬৬, মধুপুরে ২৬২, সখীপুরে ২৪৪, ভূঞাপুরে ২০৪, ধনবাড়ীতে ১৭৬, গোপালপুরে ১৬৬, দেলদুয়ারে ১৫৫, বাসাইলে ১১৩ ও নাগরপুরে ১১৩ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৮৩৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- টাঙ্গাইল সদরে ১৪২১, মির্জাপুরে ৬০০, কালিহাতীতে ২৬০, মধুপুরে ২৫২, ঘাটাইলে ২৪০, সখীপুরে ২৩১, ভূঞাপুরে ১৮৭, ধনবাড়ীতে ১৭১, দেলদুয়ারে ১৪২, গোপালপুরে ১৪০, নাগরপুরে ১০১ ও বাসাইলে ৮৯ জন।
গত বছরের (৮ এপ্রিল) জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় গত বছরের এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন, জুলাই মাসে ১০২৬ জন, আগস্ট মাসে ৯৬৪, সেপ্টেম্বর মাসে ৫২৯, অক্টোবর মাসে ১৫২, নভেম্বর মাসে ২০৫, ডিসেম্বরে ২১৮, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৩৪, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ পর্যন্ত ২৭১ জন, এখন পর্যন্ত (৬ এপ্রিল) ৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলায় একযোগে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) থেকে করোনার টিকার ২য় ডোজ দেয়া হবে। এছাড়া এখনো যারা করোনার টিকার ১ম ডোজ গ্রহণ করেনি তাদের টিকা দেয়ার কার্যক্রম চালু থাকবে।
গত (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রথম দফায় টাঙ্গাইলে ১ লাখ ২০ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন আসে। প্রথম পর্যায়ে করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারি অন্যান্য সংস্থার সম্মুখসারির কর্মী, বয়োজ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সরকারের অত্যাবর্শক্রীয় অন্যান্য এজেন্সির সদস্যরা করোনার টিকা পাবেন। পর্যায়ক্রমে ১৮ বছরের উপরে সকলেই টিকা পাবেন। ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী, গুরুত্বর অসুস্থ ও হাসপাতালে ভর্তিকৃত ব্যক্তিরা টিকা পাবেন না। টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৯টি কেন্দ্র এবং ১১টি উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি বুথে দুইজন করে টিকাদান কর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসান সিকদার/বার্তাবাজার/ভি.এস