যুক্তরাষ্ট্রে ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, স্বজনরা বলছেন রহস্যজনক (ভিডিওসহ)
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বাংলাদেশের পাবনার একই পরিবারের ৬ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকালে এই খবর জানাজানি হলে নিস্তব্ধা নেমে আসে শহরের উপকন্ঠ দোহারপাড়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে। সকাল থেকেই নিহতদের স্বজন ও বন্ধুবান্ধ পাড়া প্রতিবেশীরা পাবনার গ্রামের বাড়ীতে ভীড় জমায়। স্বজনরা কোন ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেনা এই লোমহর্ষক হৃদয়বিদারক ঘটনার। তবে নিহতদের পরিবার এবং আত্মীয়রা সরকারের কাছে দাবী করেছেন অন্ততপক্ষে নিহতদের দাফন দেশের মাটিতে করার ব্যবস্থা করতে।
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্বপ্নের দেশ আমেরিকাতে স্বপরিবারে বসবাস করেন সিটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট তৌহিদুল ইসলাম ওরফে স্যাম তৌহিদ। স্ত্রী মিসেস আইরিন ইসলাম নীলা তৌহিদ, তিন সন্তান তানভীর তাওহীদ, ফারবিন তাওহীদ এবং ফারহান তাওহীদ নিয়ে সুখের শান্তিতে বসবাস করছিলেন। তৌহিদের শাশুড়ি নীলার বৃদ্ধা মা আলতাফুন নেসাও তাদের সঙ্গে টেক্সাসে ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে পাবনায় আলতাফুননেছার ছেলেদের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। ১ এপ্রিল আলতাফুননেছার পাবনায় ফেরার কথা। করোনার কারণে সেই ফ্লাইট বাতিল হয়ে পরবর্তিতে ৭ এপ্রিল দেশে আসার দিন ঠিক হয়। কিন্তু গত শুক্র অথবা শনিবার রাতে তারা নৃশংসভাবে খুনের শিকার হন।
এদিকে হত্যা নাকি আত্মহত্যা, এটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের কমিউনিটিতে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের দুই সন্তান অন্য সদস্যদের হত্যা করে নিজেরাও আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে এখনও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় কমিউনিটিতে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নিহতের পরিবার সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে মৃতদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে। অন্তত সেই সান্তনা নিয়ে তারা আজীবন বেঁেচ থাকবেন।
জানা যায়, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে টেক্সাসের ডালাসের অ্যালেন হোমে বসবাস করতেন বাংলাদেশি দম্পতি তাওহীদুল ইসলাম ও আইরিন ইসলাম। আইরিন ইসলামের মা আলতাফুন নেসা বাংলাদেশের পাবনা থেকে এসেছিলেন মেয়ের কাছে থাকার জন্যে। দেশে ফেরার কথা থাকলেও, করোনার কারণে আটকা পড়েছিলেন তিনি।
নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও পাবনার বাসিন্দা গোপাল সান্যাল বলেন, ‘মর্মান্তিক ঘটনাটির শিকার পরিবারটির বাড়ি পাবনার দোহারপাড়ার বিখ্যাত হায়দার পরিবারের সদস্য। দোহারপাড়ার বিখ্যাত ব্যক্তি জিয়া হায়দার, রশিদ হায়দার ওনাদের আত্মীয়। এ ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’
মোঃ মাসুদ রানা/বার্তাবাজার/ভি.এস