হাতিয়ায় ৭ লাখ লোকের চিকিৎসায় ২ জন মেডিকেল অফিসার

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৭ লাখ লোকের চিকিৎসা ব্যবস্থার একমাত্র ভরসা ১৯৯৮ সালে নির্মিত হওয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে জুনিয়র কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৪জন। আবার কর্মরত ৪ জনের মধ্যে একজন হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, যাকে অফিসিয়াল কাজে সবসময় ব্যাস্ত থাকতে হয়।

অন্য আরো একজন মেডিকেল অফিসার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এখন শুধু দুইজন ডাক্তার এই হসপিটালে আউটডোর ও ইনডোরে রোগীদের দেখা শুনা করছেন। তবে গত বছর করোনা মহামারি শুরুর আগেই সরকারি ভাবে এই হসপিটালে ১৬জন ডাক্তার দেওয় হয়ে ছিল। গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে এসব ডাক্তাররা চলে যাওয়ায় এই শুন্যতা সৃষ্ঠি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ডে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৭৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ মহিলা ২৫ ও শিশু ৪০জন। দুই জন মেডিকেল অফিসার সার্বক্ষনিক এই ৭৯ জন রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে অনেক হিমসিম ক্ষেতে হচ্ছে। কয়েকজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ছাড়া এই হসপিটালে আউটডোরে রোগী দেখা অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। হসপিটালের মহিলা ওয়ার্ডের ৪৪নং বেডে ভর্তি নাছিমা আক্তার (৩০) নামে এক মহিলা। আলাপ কালে সে জানায়, শরীর অসুস্থ্য হওয়ায় গত শুক্রবার তিনি হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন। তার বাড়ী উপজেলার চরকিং ইউনিয়নে। প্রতিদিন সকালে একবার ডাক্তার আসে। রাতে কিংবা বিকালে আর আসেনা। কেন আসেনা তা তার জানানেই। রাতে জরুরী প্রয়োজনে ডাক্তারদের ডাকলেও তাঁরা আসে না।

গত সোমবার সকাল ১১টায় হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে এ্যাম্বোলেন্সে একজন রোগী নিয়ে ৪/৫জন লোক এসে ঘাটে উপস্থিত নদী পারহওয়ার জন্য। কালবৈশাখী ঝড় ও নদী উত্তাল হওয়ায় কোন ট্রলার নেই, তাই অনেক অনুরোধের পর রোগী ও তার স্বজনদের নিয়ে একটি স্ট্রিটবোট এই প্রতিকূল অবস্থায় নদী পার হতে ছেড়ে যায়।

ঘাটে কথা হয় রোগীর স্বজন আলতাফ হোসেনের সাথে সে জানায়, গত সোমবার সকালে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় আহত হয় হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের আবুল বাসার (৪০) নামে এই ব্যাক্তি। সাথে সাথে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের সকল সূযোগ সুবিধা থাকার পরও তাকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। হসপাতালে ভর্তী করানোর পরপরই বাহিরে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয় জরুরী বিভাগ থেকে, জানিনা তাঁরা কেন এমনটি করেছে। পরে জানতে পারি হসপিটালে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। আবহাওয়া ভালো নয়, নদী উত্তাল এরপরেও স্প্রিডবোটে তাকে নিয়ে রওয়ানা দিতে হচ্ছে জেলা সদর হসপিটালের উদ্দেশ্যে। তাই একজনকে বাচাঁতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকিনিয়ে আরো চার পাঁচজন মিলে উত্তাল নদী পাড়ি দিতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বোলেন্সের দায়িত্বে থাকা চালক এনাম উদ্দিন জানান, শুধু আবুল বাসার নয় গত এক সপ্তাহে আরো অনুমানিক ১৫জন রোগীকে হাতিয়ার বাহিরে ঢাকা ও জেলা সদর হসপিটালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল কিনা তা তাঁর জানা নেয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নাজিম উদ্দিন জানান, করোনার দ্বিতীয় ডেউ মোকাবিলা করার মতো কোন অবস্থা এই মুহূর্তে হাতিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের নেই। জরুরী ডাক্তার দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আপাদত হাসপাতালে সার্ভিস দেওয়ার জন্য হরণী ও চানন্দী ইউনিয়নের কর্মরত ভাসানচরে থাকা একজন মেডিকেল অফিসারকে হাতিয়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

জিল্লুর রহমান রাসেল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর