যশোরে নাম মাত্রই লকডাউন, গা ভাসিয়ে মানুষের ঘুরাঘুরি
যশোরে লকডাউনের প্রথম দিন কড়াকড়ি ভাবে কাটলেও দ্বিতীয় দিনে গা-ভাসিয়ে চলাচল করছে সকল শ্রেণীর মানুষ।
সরকার জনসাধারণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত ৫ই এপ্রিল থেকে সারাদেশে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন। তবে আশেপাশের জেলাগুলোর ন্যায় যশোরেও প্রথম দিন(৫ এপ্রিল) কড়াকড়ি ভাবে লকডাউন পালন করলেও ২য় দিন যেন “করোনা বলতে কিছুই নাই” এমন ভাব বিস্তার করছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে।
শহরের কয়েকটি জায়গায় পুলিশ, প্রশাসনের টহল থাকলেও তাদের ততোটাও কড়াকড়ি হতে দেখা যায়নি। পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অবস্থান যেখানে সেখানে লকডাউনে মতো পরিবেশ বজায় থাকলেও শহরের অন্য প্রান্তে আরেক বিপরীত মুখী অবস্থা। লাগাম ছাড়া জনগন।
শপিং মল, বড় বড় মার্কেট বন্ধ তাকলেও পূর্বের মতোই স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে কিছু কিছু কাঁচাবাজার এবং মুদিখানার দোকান গুলোতে।
মাঝে মাঝে প্রশাসনের চোখে ফাকি দিয়ে উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি করে সাধারণ জনগন। নেই স্বাস্থ্যবিধীর বালাই।
শহরের কয়েকটি সড়কে (যে সকল সড়কে প্রশাসনের আনাগোনা কম) চায়ের দোকান, খাবারের হোটেল খোলা থাকতে দেখা গিয়েছে। বেপরোয়া ভাবে রিক্সা ও ইজিবাইকগুলো সুযোগ পেয়ে প্রশাসনের চোখে ফাকি দিয়ে ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী পরিবহন করছে। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে এসকল অবহেলার জন্য যশোর জেলা শহরের মধ্যে প্রতিদিন করোনা সনাক্তের হার বেড়েই চলেছে।
গতকাল আইন ভঙ্গ করায় কয়েকটি রিক্সা অটোবাইক উল্টিয়ে রাখতে দেখা গিয়েছিলো। অন্য দিকে লকডাউনের পর থেকে চাপ মুদিখানার দোকানে। অধিক বাজার করে নিয়ে ঘরে ফিরছে ক্রেতারা।
তবে চিন্তায় দিঘোর ঘুরেবেড়াতে দেখা গিয়েছে এক শ্রেণির খেটে খাওয়া দিমমুজুর মানুষদের। লকডাউন কত দিন থাকবে, সময় বাড়বে কি না , সরকার খাদ্য সহায়তা দেবে কি না, সংসার কিভাবে চালাবে এমন বিষয় নিয়ে শংকিত তারা।
কয়েকজন দিনমুজুর বলেন, এটা কোন লকডাউন না, লকডাউন হলে লকডাউনের মতো কড়াকড়ি করতে হবে। সবার জন্য একই নিয়ম চালু করতে হবে। এক শ্রেনীর মানুষ খাবে, আরেক শ্রেণীর মানুষ না খেয়ে দিন কাটাবে এ তো মানা যায় না। তাদের দাবি লকডাউন আরও জোরদার ভাবে বাস্তবায়ন করা হোক এবং গরীব অসহায়দের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হোক।
এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তাবাজার/পি