স্কুলের সকল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের দায়িত্ব নিলেন সভাপতি
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সময়ে যখন সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগএবং অর্থাভাবে লেখাপড়া ও ফরম ফিলাপ করতে পারছেনা অনেক শিক্ষার্থী, দিশেহারা অভিভাবক ঠিক তখনই মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল এন্ড কলেজ) সভাপতি, সমাজসেবক আলহাজ্ব মকবুল হোসেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, করোনার প্রকোপে আমাদের অনেকের অভিভাবকরা আয়ের পথ হারিয়েছেন। পরিবারের ভরণপোষণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক অভিভাবক, ঠিকমতো খাবার পাচ্ছি না এসময় টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করা আমাদের অনেকের পরিবারের পক্ষে সম্ভব না, ধরে নিয়েছিলাম এবছর এসএসি পরিক্ষা দেওয়া হবেনা। এমন সময় আমাদের কাছে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো হয়ে হাজির হয়েছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দানবীর হাজী মকবুল হোসেন। উনার সহযোগীতা আমাদের কাছে স্বরণীয় হয়ে থাকবে।
অভিভাবকরা বলেন, কৃষি নির্ভর সংসার এখনো ধান মাঠে, পকেট ফাঁকা অনেক হতাশায় ছিলাম কিভাবে ফরম ফিলাপ করব সন্তানদের। ঠিক তখনই আমাদের আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন জাঙ্গালিয়ার কৃতিসন্তান হাজী মকবুল হোসেন।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল এন্ড কলেজ) এর অধ্যক্ষ আ,জ,ম আকরাম উদ্দিন জানান, ২০২১ সালের নিয়মিত এসএসি পরীক্ষার্থী ১১৭ জন। গত সোমবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ম্যানেজিং কমিটির এক মিটিং এবছর সকল এসএসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ সম্পূর্ণ ফি নিজে দিয়েছেন জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল এন্ড কলেজ) এর সভাপতি আলহাজ্ব মকবুল হোসেন। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়মূলক কাজ করে যাচ্ছেন, সভাপতির নিজ অর্থায়নে কিশোরগঞ্জ জেলার সর্ববৃহৎ শহীদ মিনারের কাজ সম্পুর্ণ করেছেন, ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছেন, সমগ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছেন, সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের হাজিরা ডিজিটাল করেছেন, নিজ অর্থায়নে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করে দিচ্ছেন যার কাজ এখনো চলমান।
সভাপতি আলহাজ্ব মকবুল হোসেন বলেন, আমি আমার স্বাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি আমার জন্মস্থান পাকুন্দিয়ার পিছিয়ে পড়া মানুষদের সমাজের সামনের কাতারে নিয়ে আসার। পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সুবিধার জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি।
হুমায়ুন কবির/বার্তাবাজার/পি