সিরাজগঞ্জে হাজী আহমাদ আলী আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় স্নাতকোত্তর (২ বছর মেয়াদী) ২য় পর্বে পূণঃভর্তি ফি তিনগুন বেশী নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল শামছুল আরেফিন এর বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ এপ্রিল) থেকে তিনগুণ বেশি ভর্তি ফি নিয়ে ভর্তির রমরমা ব্যবসা করছে বলে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসা বোর্ড ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মকে তোয়াক্কা করছেনা। একদম নিজেদের ইচ্ছে মত ভর্তি ফি বাবদ ৩৭৫ টাকার বিপরীতে প্রতি শিক্ষার্থীদের নিকট হতে ১ হাজার টাকা করে আদায় করছেন।
যদিও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবু হানিফা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সেশন ফি ৩০০, ক্রীড়া ফি ৫০ ও রোভার স্কাউট ফি ২৫ সহ মোট ৩৭৫ টাকা শিক্ষার্থীদের প্রদান করতে হবে।
সরকারি আলিয়ায় কামিল/মাস্টার্সে ভর্তি ফি বা ভর্তি নিয়ন্ত্রণে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম বেধে দিলেও সেটা তোয়াক্কা করছেনা কর্তৃপক্ষ। এমন কান্ডে শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি ভর্তি ফি দিয়ে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে আমরা সরকারি সুবিধা ভোগ করার জন্য ভর্তি হই। কিন্তু আমরা সেই সুবিধা ভোগ করতে পারছি না। দুর্নীতির কারণে বরং বেসরকারি চেয়েও সরকারিতে বেশি ফি দিয়ে পড়ালেখা করতে হচ্ছে। প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬২৫ টাকা করে নিলে কত টাকা হয়? আর সেই টাকা কার পকেটে যাচ্ছে?
অতিরিক্ত ভর্তি ফির ব্যাপারে হাজী আহমাদ আলী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শামছুল আরেফিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা কোন প্রকার অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছিনা। তবে যাদের মাসিক বেতন বকেয়া আছে তাদের কাছ থেকে সে গুলো আদায় করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত ৬২৫ টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে সেটি রশিদে উল্লেখ করা হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই প্রিন্সিপাল বলেন, কি কি খাতে নেওয়া হচ্ছে সেটি উল্লেখ করার সময় নেই। শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন সরকারি টাকায় সম্পন্ন হয় না। তাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বোর্ডের বাহিরে কোন প্রকার অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি