আজ শনিবার সকাল ১১:৫৪, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

সৎমেয়েকে গর্ভপাত করিয়ে ধর্ষক আরমান ফেসবুকে যা লিখেছিলো

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : জুলাই ১৫, ২০১৭ , ৫:০২ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : তথ্য ও প্রযুক্তি
পোস্টটি শেয়ার করুন

আট বছর ধরে সৎ মেয়েকে  ধর্ষণকারী আরমান হোসেন সুমনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই পুলিশের কাছে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি তার দাবি, সৎ মেয়েকে তিনি বিয়েও করেছেন। তবে নির্যাতনের শিকার মেয়েটি বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সৎ মেয়ের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকিসহ ধর্ষণ মামলায়  আসামী আরমান হোসেন সুমন সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে জঘন্যসব তথ্য। সৎবাবার লাগাতার ধর্ষণের একপর্যায়ে নির্যাতিত মেয়েটি অন্ত:সত্বা হয়ে পড়ে। এসময় জোরপূর্বক কুলাঙ্গার আরমান তাকে গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করে।মামলার এজাহারে ওই মেয়ে বিষয়টি উল্লেখ করে জানিয়েছেন২০১৫ সালে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পরে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এরপরও তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়ে যান আরমান। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ওই মেয়ে তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানেও কুপ্রস্তাব পাঠাতে থাকেন আরমান। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটির এক বন্ধুকে ভিডিও ও অডিও ক্লিপ পাঠান আরমান।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের শব্দ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আরমান হোসেন সুমন যে কতোটা বিকৃত মানসিকতার অধিকারী সৎমেয়ে গর্ভপাত করিয়ে এনে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসেই বুঝা যায়। ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর আরমান ফেসবুকে গর্ভপাত নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেন-

‘মানুষের অসাবধানতায় কিংবা ইচ্ছাই বৈধ্য বা অবৈধ্য ভাবে গর্ভে চলে আসে সেই মানবভ্রুন, যা ধিরে ধিরে সে মানব শিশুতে রুপান্তরিত হয়।

কিন্তু প্রতিনিয়ত মানুষ তার গর্ভে বৈধ্য বা অবৈধ্য ধারন করা বাচ্চাটিকে নিজের লাভের কথা ভেবে নির্মম ভাবে নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু একবারো ভাবি না একটি জীবন হত্যা করার অধিকার আমাদের কেউ দেয় নি, একটি জীবন মানে নতুন এক পৃথিবী, তার আলাদা একটি সত্ত্বা এবং আলাদা চিন্তা চেতনার আর ভাবনার বিশাল এক রাজ্য।

একবারও মানুষ ভাবেনা বৈধ্য বা অবৈধ্য যেভাবেই হউক সেই অবুঝ শিশুটির তো কোন দোষ নেই, তবে তাকে কেন আমাদের পাপের কারণে জীবন দিতে হবে? সে যদি সুন্দর ভাবে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে তবে কি খুব বেশী মানুষের সমস্যা হবে, তার জীবন ধারন কিংবা চলার পথ এক সময়তো সে নিজেই তৈরি করে নিবে।

আমরা কেউ কখনোই ভাবিনি বৈধ্য/অবৈধ্য ধারন করা বাচ্চাটি যদি বেচে থাকতো তাহলে সে এই পৃথিবীর শ্রেষ্ট কোন মানুষ হতে পারতো! হতে পারতো মানব জাতির শ্রেষ্ট কোন উদাহারণ। সেই মানুষটির উছিলায় হয়তো অনেকের দুঃখ লাগব হতে পারতো কিন্তু আমরা সেই মানুষটিকে বৈধ্য, অবৈধ্যের আওয়াজ তুলে সমাজ, দেশ, বংশ ও নিজের মান সম্মানের কথা ভেবে শুরুতেই নষ্ট করে দিচ্ছি।

বাচ্চা নষ্ট করার সব পদ্ধতিতেই এক ধরনের লম্বা নল জরায়ুতে ঢুকিয়ে গর্ভের শিশুটিকে প্রথমে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। পরে ভ্যাকুয়াম সাকারের মাধ্যমে শিশুটিকে শুষে আনা হয়। গর্ভপাতের সময়কার শিশুটির অব্যাক্ত বেদনা হয়তো কারো কানে পৌঁছায় না।

কিন্তু তাই বলে কি তাদের প্রতি আমাদের কোন মায়া-মমতা নেই? আপনার জন্ম গ্রহণকারী ছোট্ট বাবুটি যখন সামান্য একটু ব্যাথা পায় তখন আপনার কাছে কেমন লাগে? আর আপনার চোখের আড়ালে যাকে ক্ষতবিক্ষত করছেন তার ব্যথাটা একটু বোঝার চেষ্টাও করেন না? মানুষ নামের নরপশুর নির্মমতায় একটি নিষ্পাপ শিশু মৃত মাংসপিণ্ডে পরিণত হয় যেসব মা ক্ষণিকের সুখের জন্য নিজ গর্ভের সন্তানকে পাশবিকভাবে হত্যা করে তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে হৃদয় উগড়ে দেয়া সীমাহীন ঘৃণা।’