এক সময়ের কৃষি সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের মাঠ জুড়ে গরু ও লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ ছিল চোখে পড়ার মতো। কালের স্রোতে লাল সবুজের গ্রাম বাংলায় গরু দিয়ে হালচাষ আর চোখে পড়েনা বললেই চলে।
কাঁক ডাকা ভোরে কৃষকের সঙ্গে লাঙ্গল ও জোয়াল কাধে নিয়ে জমি চাষ করতে মাঠে যাওয়ার দৃশ্য বিলুপ্তি প্রায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে কৃষি মাঠ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গরু, লাঙ্গল, জোয়াল ও মই। জেলার ৯ টি উপজেলা মাঠের দিকে তাকালেই দেখা যেত গরুর হাল। কিন্তু সময়ের সাথে আধুনিকতার স্পর্শে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে কৃষি মাঠে। ফলে কৃষি মাঠ থেকে কৃষকের সেই ভাটিয়ালি গান লাঙ্গল ও গরু দিয়ে জমি চাষ করতে দেখা যায় না কৃষকদের।
এ যেন কৃষকের সব দখল করে নিয়েছে আধুনিকতার যন্ত্র ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। এক সময়ে দেশে কৃষক বানিজ্যিকভাবে গরু পালন করতো হাল চাষ ও মোটাতাজা করার জন্য। তারা নিজের জমি ও অন্যের জমি চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। আর হালের গরু দিয়ে জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের স্বচ্ছলতা।
রোববার (৪ এপ্রিল ২০২১) সরেজমিনে গেলে চৌহালী উপজেলার ঘুশুরিয়া গ্রামের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর ফকির বলেন, গরু দিয়ে জমি চাষ করাই আমার পেশা ছিল। গরুর হাল চাষের কদর ছিল আগে এখন আর তা নেই, আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমরাও ডিজিটাল হয়ে গেছি। ছোট বেলায় হালচাষের কাজ করতাম, বাড়িতে হালচাষের জন্য ২ থেকে ৪ জোড়া গবাদিপশু পালতাম। চাষের জন্য ১/২ জোড়া বলদ ও গাভি পালন তো থাকতোই, আর কাঠ দিয়ে লোহার ফাল দিয়ে লাঙ্গল, বাশ দিয়ে জোয়াল, মই, লাঠি ও গরুর মুখের টোনা ব্যবহার হতো।
এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, লাঙ্গল ও গরু দিয়ে হালচাষ কৃষি মাঠ থেকে বিলুপ্ত। সরকার কৃষি মাঠকে যান্ত্রিকরণ করেছে। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং কৃষক লাভবান হচ্ছে।###
এম এ মালেক/বার্তাবাহার/ভি.এস