ঈশ্বরগঞ্জ সেতুর ১৭ বছর হলেও সড়ক এখনো অনুপযোগী

বিল ও গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে দীর্ঘ পথ। দুই বিলের মাঝ খানে রয়েছে কনক্রিটের সেতুও। সরু সড়কে দীর্ঘ ১৬ বছর আগে সেতুটি নির্মিত হয়। এলাকার মানুষের সহজ যোগাযোগের জন্য সেতুটি নির্মিত হলেও তা মানুষের কাজে আসছে না। সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সড়ক দিয়ে কোনো ধরণের যান চলাচল করতে পারেনা। ওই অবস্থা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি সেতুর।

উপজেলা মাইজবাগ ও মগটুলা ইউনিয়নের দুই প্রখ্যাত জলাশয় হচ্ছে কাতলা বিল ও শিংগা বিল। বিল দুটির মাঝ খান দিয়ে সরু আল ধরে চলাচল করতো বানাশ্রম, কদুখালি, ভাসা গোকুলনগর, সাধুরগোলা ও চরশংকার গ্রামের মানুষ। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির মাঝ খানে মগটুলার বানাশ্রম ও মাইজবাগের ভাসাগোকুলগরের সীমান্তে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে আইএফএডির অর্থায়নে ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা ব্যায়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। কিন্তু প্রায় সাড়ে ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি কার্যকর করা যায়নি। সেতুটি নির্মাণের সময় তৎকালীণ সময়ে হাল্কা মাটি কাটা হলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি কেউ। খানাখন্দে মাটির সড়কটি বেহলা হয়ে থাকায় এই সড়ক ধরে কোনো যান চলাচল করতে পারেনা। সেতুটির সংযোগস্থলে মাটি না থাকায় কোনো যানবাহন সেতুটি পার হওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার।

এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সেতুটি নির্মিত হলেও তা মানুষের কোনো উপকারে না আসায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বানাশ্রম গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, তৎকালীণ এমপিকে অনেক বলে সেতু ও রাস্তাটি করিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাওয়া সেতুটি অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি পারভীন আক্তার বার্তাবাজারকে বলেন, সেতু নির্মিত হলেও রাস্তা না থাকায় সেতু কাজে আসছে না। এলাকার রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত কয়েকদিন আগে তিনি অসুস্থ্য হয়ে গেলে তাকে বাঁশের চাঙ্গারি বানিয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত নিতে হয়েছে।’ ইদ্রিস আলী বলেন, সরকার এতোটাকা খরচ করে সেতু বানিয়েছে। এখন রাস্তা করে তাদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি তাদের।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসকর আলী বার্তাবাজারকে বলেন, দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী স্থানে সেতুটি হওয়ায় দুই ইউনিয়নের কেউ রাস্তাটির বিষয়ে উদ্যোগ নেয় না। তৎকালীন সময়ে সংসদ সদস্যের প্রষ্টোয় সেতু ও সড়কটি হলেও ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে সড়কটি সংস্কার সম্ভব নয়। তাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বার্তাবাজারকে বলেন, সেতু ও সড়কটির এমন অবস্থার কথা তিনি অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

আরিফুল হক/বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর