একদিনেই ১৫ হাজার কোটি টাকা গায়েব শেয়ারবাজার থেকে

করোনার সংক্রমণ বিবেচনা করে করে দেশে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। যার ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা। বাড়িয়ে দিয়েছেন শেয়ার বিক্রির চাপ।

রোববার (৪ এপ্রিল) দিন শেষে বড় ধস নেমেছে শেয়ারবাজারে। একদিনেই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম পতিত হয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা লাপাত্তা হিয়ে গেছে। শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই দেশজুড়ে এক সপ্তাহের লকডাউনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৮৫ পয়েন্ট পড়ে যায়।

শেয়ার বাজারে দেখা দেওয়া এই বড় দরপতনের মধ্যেই এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম জানান, লকডাউনের মধ্যেও শেয়ার বাজারে লেনদেন বন্ধ হবে না। ব্যাংকের লেনদেনের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শেয়ার বাজারে লেনদেন চলবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আশ্বাসও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক দূর করতে পারেনি। ফলে শুরুর বড় দরপতনের ধারা চলমান থাকে। এর মধ্যেই দুপরে লকডাউন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর শেয়ার বাজারে দরপতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা অস্বাভাবিক বিক্রির চাপ বাড়ালে অনেক কোম্পানির ক্রেতা সঙ্কট দেখা দেয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সূচকের ওপরে। ফলে দেখতে দেখতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক প্রায় দুশ পয়েন্ট নেই হয়ে যায়।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় পতন হয়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৮২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ৩৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সূচকের বড় পতনের দিনে ডিএসইর লেনদেন হয়েছে ৫২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর