“হামাক নদীর ভাঙন থাকি বাঁচান বাহে”
“হামাকগুল্যাক নদীর ভাঙন থাকি বাঁচান বাহে। গত কয়দিন থাকি নদী হামার সোগ খাইল। হামাক দেখার কাইও নাই বাহে।” এভাবে নদীর ভাঙন থেকে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ বাসিন্দা ইউনূস মিয়া।
তার মতো হাজারো মানুষ একত্রিত হয়ে ধরলা নদীর তীরে তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছেন নদীর তীব্র ভাঙনের হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে।
কুড়িগ্রাম জেলা সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামক স্থানে আজ শনিবার বেলা ১১ টা থেকে টানা ৩ ঘন্টা ধরে কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে নদীর বাম তীর রক্ষার্থে ও ভাঙন থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে দ্রুত বাঁধ নির্মানের দাবিতে প্রতিবাদী মানববন্ধন হয়েছে ধরলা নদীর পাড়ে।
মাববন্ধনে অংশ নেয়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো জানান, বিগত কয়েকদিনের ভাঙনে মসজিদ,বিদ্যালয়, কৃষি জমি,ঈদগাহ মাঠ সবকিছু নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন প্রতিদিন আরো তীব্র হচ্ছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এই এলাকায় বাঁধ নির্মানের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আমির ডাক্তার বলেন,” পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন কয়েকবার এসে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোন কাজের অগ্রগতি দেখতে পাইনি। ”
প্রতিবাদী এই কর্মসূচিতে স্থানীয়দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন,স্থানীয় কৃষক এনামুল,শাওন,ইয়াকুব আলী,নয়ারহাট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম,কেরামত মেম্বার প্রমুখ।
উল্লেখ্য- জেলা সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ ওর্যাডের বাসিন্দা এই অঞ্চলে বসবাস করছেন । এলাকার ভাঙন রোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কয়েকবার এলাকা পরির্দশন করে বাঁধ নির্মানের জন্য গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় চিঠি দিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সেই কাজের অগ্রগতি দেখা যায় নি।
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/পি