নলছিটিতে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন, ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থীরা
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সূর্যমুখীর হাসিতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এ যেন সবুজের মাঝে হলুদের সমাহার। যতদূর চোখ যায়, সূর্যের দিকে মুখ করে হাসছে সূর্যমুখী। আর এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এরই মধ্যে সূর্যমুখীর হাসিতে ভাল ফলনের স্বপ্ন দেখছে কৃষকরা।
নলছিটি উপজেলার সারদল গ্রামের কৃষক মোঃ হেলাল তালুকদার তার ৩৩ শতাংশ জমিতে এ সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেন ৷ তার জমিতে হাসি ফুটিয়েছে সূর্যমুখী ৷ তা দেখতে শহর থেকে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থীরাই সেখানে ভীর জমায়৷
এ ব্যাপারে কথা বললে কৃষক মোঃ হেলাল তালুকদার জানান, “আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে ৩৩ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করি। বর্তমানে সুর্যমুখী ক্ষেতে ভাল ফুল আসতে শুরু করেছে। এমন পরিবেশে সূর্যমুখী ফুল অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকেই সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার অনেকেই ক্ষেতে ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছেন। এগুলো আমার কাছে ভালোই লাগছে৷ তবে কিছু কিছু লোক ক্ষেতের ফুল ছিড়ে নষ্ট করছে যার কারনে আমাদের সবসময় ক্ষেতের আশেপাশে থাকতে হচ্ছে৷”
তিনি দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগের নামে আমাদের গাছের ফুল ছিড়ে নষ্ট করবেন না৷ এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়৷ এ সূর্যমুখী চাষে আমরা যদি সাফল্য না পাই, লাভ না হয়ে উল্টো ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে কোনো কৃষক এ সূর্যমুখী চাষ করতে সাহস করবে না৷”
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি জানান, এবছর উপজেলায় সূর্যমুখির বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলায় সূর্যমুখির চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিলো ২৫ হেক্টর। কিন্তু সূর্যমুখির ফুলপর চাষ লাভজনক হওয়ায় তা লক্ষমাত্রার আড়াইগুন ছারিয়ে গেছে। উপজেলায় ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় মোট ৭৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখির ফুলের চাষ হয়েছে। সরকারের ভর্তুকি, কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ও আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবছর সূর্যমুখির বাম্পার ফলন হয়েছে।
সূর্যমুখির তৈলে কোলেস্টেরল কম থাকায় দিন দিন বাজারে এ তেলের চাহিদা ব্যপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূর্যমুখির খৈলে উচ্চ মানের পুষ্টি গুন থাকায় পশুপাখি মাছসহ বিভিন্ন গবাদিপশু পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ গাছের কান্ড জ্বালানী কাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এছাড়াও জমিতে সূর্যমুখির চাষের মাধ্যমে শশ্যাবর্ত’ন ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় সূর্যমুখির চাষের সম্ভবনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে এ তেল বীজের স্থানীয়ভাবে ব্যবহার ও বাজার ব্যবস্থা আশানুরূপ ভাবে সৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পরেছে কৃষকরা। উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান বিবেচনা করে সরকার মিল স্থাপনসহ সার্বিক উন্নয়নে এগিয়ে আসে সে বিষয়ে সচেতন মহল সরকারের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।
বার্তাবাজার/পি