রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় পুকুরের মাছ চুরির অভিযোগে এক শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম মোঃ তুষার আলী (১০)। তার পিতা মোঃছহির উদ্দিন, গ্রামঃ মেরামতপুর। ছেলেটির পিতা শ্রমিকের কাজ করেন।
আজ শুক্রবার (২ এপ্রিল) দুপুর দুইটার দিকে চারঘাট পৌর এলাকার মেরামতপুর মৌজার সিদ্দিক কলেজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে শিশু তুষার বন্ধুদের সাথে গোসলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হবার পরে প্রত্যেকদিন যে পুকুরে গোসল করে সে পুকুরে কীটনাশক প্রয়োগের কারণে পার্শ্ববর্তী পুকুরে গোসল করতে গেলে পুকুর মালিক মাছ চুরি সন্দেহে শিশু তুষারসহ অপর একটি বন্ধুকে আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চড়-থাপ্পড় দেয়।
এ সময় পুকুর মালিক জহিরের হাত থেকে অপর বন্ধু পালিয়ে গেলেও আটকে থাকে তুষার। বন্ধু পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে তাকে গাছের সাথে বেঁধে পার্শ্ববর্তী আম গাছের ডাল ভেঙে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে পুকুর মালিক জহিরুল।
ঘণ্টা খানেক বেঁধে রাখার পর ঘটনাটি দেখে স্থানীয় লোকজন কথিত পুকুর মালিকের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে ।
তবে অভিযুক্ত পুকুর মালিক জহিরুল ইসলাম (৫০) দাবি করেন তিনি যেটা করেছেন সেটা ঠিক এবং শিশুটির অপরাধের এটাই মুখ্য শাস্তি। মাছ চুরির বিষয়ে তিনি বলেন দীর্ঘদিন যাবৎ কয়েকটি ছেলে আমার পুকুরে মাছ চুরি করে আসছিল, আমি অতীতও বিষয়টি ধরার চেষ্টা করি কিন্তু ধরতে পারিনি। আজ হাতেনাতে ধরতে পারি এবং তাৎক্ষণিক তাদের বিচার করেছি।
কিন্তু প্রশ্ন ছিল মাছ চুরির বিষয়টি যদিও সত্য হয়! তবুও আইন নিজের হাতে তুলেনিয়ে শিশুটিকে নির্যাতন করা বৈধ বা আইনের বহির্ভূত কোনো কাজ হয়েছে কি না? তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বিরূপ আচরণ করে বলেন আমি শারীরিকভাবে ছেলেটিকে নির্যাতন করেছি, পরবর্তীতেও এমন কাজ করবো, যা লিখবেন লিখেন।
শিশুটির বাবা মোঃ ছহির উদ্দিন বার্তাবাজারকে বলেন, ‘কথিত মাছ চাষী জহিরুল আমার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে এক ঘণ্টার মতো বেঁধে রেখেছেন। তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ কার কাছে বিচার চাইব।’
চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করা হলে তিনি বার্তাবাজারকে বলেন, ‘ঘটনাটি প্রথমে আমাদের কেউ জানায়নি। তবে সন্ধ্যার পরে রাত্রিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেলেও তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রুজু করা হবে। কিন্তু শিশু নির্যাতনের বিষয়টি একেবারেই অমানবিক এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানা পুলিশ জড়িতদের ছাড় দেবে না।
মানবাধিকার কর্মী সাইফুল ইসলাম বাদশার সাথে কথা বললে তিনি বার্তাবাজারকে জানান ঘটনাটি অনৈতিক ও অমানবিক। অভিযুক্ত পুকুর মালিক জহিরুল যে কাজটি করেছে সেটা খুবই অন্যায় এবং আইন বহির্ভূত কাজ। এ বিষয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
উল্লেখ্য, শিশুটি চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান শিশুটির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক, বেশ কিছু জায়গায় মারাত্মক ভাবে জখম রয়েছে।
মোঃ নবী আলম/বার্তাবাজার/ভি.এস