পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে কবরস্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে ৪ বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরসহ আরও শতাধিক কবর।
উপেজলার সিপাইপাড়া ধাইজান গ্রামে ঘটা এই ঘটনায় শুক্রবার (২ এপ্রিল) দুপুরে মামলা দায়েরের ব্যাপারে থানায় অভি্যোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিপাইপাড়া ধাইজান গ্রামে সিপাইপাড়া মৌজার এসএ ১২৯ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি প্রায় কয়েক যুগ ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে এই কবরস্থানে ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় শতাধিক মানুষ সমাহিত রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত কবরস্থানটি বাইনগাছ গ্রামের আ. জব্বারের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৮) একই গ্রামের আব্দুল গণি (৬০), আব্দুল জব্বার (৫২), জালাল উদ্দিন (৫০), আব্দুল জলিল (৪৮) নিজেদের দাবি করে গত ২৮ মার্চ (রোববার) বিকেল সাড়ে ৫টায় সবার অগোচরে আক্রোশমূলক ও অন্যায়ভাবে আগুন দিয়ে কবরগুলি জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনায় কবরস্থানের ৪ বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরসহ প্রায় শতাধিক কবর পুড়ে যায়। পরে বিষয়টি সবার নজরে এলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ওবায়দুল হক আগুন লাগানোর ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে দেয়।
অভিযোগকারী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ইমরান আলী প্রধান বলেন, আমি শবে বরাত উপলক্ষে ২৯ মার্চ (সোমবার) বিকেলে কবরস্থানে গেলে দেখি সব কবর আগুনে পুড়ে গেছে। পরে জানার চেষ্টা করলে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ওবায়দুল হক জানান বাজারে যাওয়ার সময় জিয়াউরসহ অভিযুক্তদের কবরে আগুন লাগাতে দেখেছেন। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে নয় সাধারণ মানুষ হিসেবে এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ওবায়দুল হক বলেন, আগুন লাগানোর সময় জিয়াউরসহ অভিযুক্তদের বাধা দিলেও তারা কবরগুলোতে আগুন দেয়। এমনকি কবরগুলোতে আগুন লাগিয়ে মসজিদে ২০ টাকা দান করবে বলেও আমাকে জানায়।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সায়েম মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/এসজে