স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের গৃহবধু রোজিনা খাতুন। প্রায় ১৬ বছর আগে হরিনাকুন্ডু উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের জালাল সর্দ্দারের মেয়ে এবং পাশ্ববর্তী এলাকার ভাতুড়িয়া গ্রামের মন্টু শেখের সাথে বিয়ে হয় রোজিনা খাতুনের। পরে তাদের সংসারে জন্মগ্রহন করে মীম নামে এক কন্যা সন্তান।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে রোজিনার স্বামী মন্টু শেখ বিদেশ যাওয়ার জন্য এক লক্ষ টাকা দাবি করে আসছিল রোজিনার পিতা জালাল উদ্দিনের কাছে। এ ঘটনার জের ধরে সংসারে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। এরই মাঝে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বামী- স্ত্রীর মাঝে বাক-বিতন্ডা এবং হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। পরে রোজিনা খাতুন বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।
মন্টু শেখের পিতা শফিউদ্দিন শেখ বলেন, রোজিনা অত্যন্ত রাগি মেয়ে ছিল। আমি মেয়ের মতো করে রোজিনাকে ভালবাসতাম। কিন্তু ছেলে-বউমার মাঝে সামান্য হাতাহাতির ঘটনায় এমন ঘটবে আমরা এটি ভাবতেই পারিনি।
রোজিনার পিতা জালাল সর্দ্দার জানান, জামাই মন্টু শেখ প্রায়ই আমার মেয়েকে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করতো। আজ আমার মেয়ের এই অবস্থা। আমার মেয়েকে ওরা মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা গ্রাম বাসির মাধ্যমে জানতে পারলাম রোজিনা মারা গেছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এব্যাপারে হরিনাকুন্ডু থানার এস আই মাসুদ রানা জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
খাইরুল ইসলাম নিরব/বার্তাবাজার/ভি.এস