দেশে করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি শুরু হয়েছে গত ২৯ মার্চ থেকে। সেদিন প্রথমবারের মত দেশে আক্রান্তের সংখ্যা পার হয় ৫ হাজারের বেশি। এরপর থেকে এই সংখ্যা একবারও কমেনি। বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল, এই ৫দিনে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৮০ জন মানুষ। এই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫১ জন।
২৯ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৫ হাজার ১৮১ জন। এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৪৫ জন। পরদিন (৩০ মার্চ) শনাক্ত হন ৫ হাজার ৪২ জন। এই সময় মারা যান আরও ৪৫ জন।
৩১ মার্চ দেশে আরও শনাক্ত হন ৫ হাজার ৩৫৮ জন। এই সময় মারা যান ৫২ জন। এপ্রিলের প্রথম দিনে প্রথমবারের মত আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৬ হাজার ৪৬৯ জন। এদিন দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্য হয়। প্রাণ হারান ৫৯ জন।
সর্বশেষ শুক্রবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৮৩০ জন। এদিন মারা যান আরও ৫০ জন মানুষ।
তবে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়লেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বেশ উপেক্ষিত। এই সময় নির্বাচন বন্ধ করা হলেও বন্ধ করা হয়নি অফিস আদালত। উল্টো বাসে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নিয়ম করে মানুষজনকে ফেলা হচ্ছে ভোগান্তিতে। শুক্রবার বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে নেওয়া হয়েছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাও।
অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, দেশে যুক্তরাজ্যের নতুন স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়েছে অথবা বাংলাদেশে নতুন কোনও স্ট্রেইন হয়েছে। এটা গতবারের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে। সংক্রমণ বন্ধ করার জন্য আমাদের দরকার ট্রেসিং, করোনা আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন।
দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা দিয়ে করোনা যুদ্ধে নামা যাবে কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের রয়েছে বিস্তর সন্দেহ। তাদের মতে এই মুহুর্তে কড়া লকডাঊন না দিলে বাংলাদেশকেও দেখতে হতে পারে ব্রাজিল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মত মরদেহের মিছিল।
বার্তা বাজার/এসজে