টাঙ্গাইলে নির্মিত সেতুটি এখন মরণ ফাঁদ
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর মাঝখানে ডেবে গেছে। দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। বেশির ভাগ পিলারের পলেস্তারা ওঠে গেছে। বেরিয়ে গেছে রড। এর ফলে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে হাজারও মানুষ ও যানবাহন। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। সেতুর কোন পাশেই লাগানো হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ লেখা সংবলিত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। করা হয়নি বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা। আর এই সড়ক দিয়েই প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, সাটুরিয়া সহ ঢাকার যাত্রীরা।
ব্রিজের পাশের মুদি দোকানী আব্দুস ছালাম বার্তা বাজারকে বলেন, নাগরপুর দরগ্রাম ভায়া ছনকা বাজার সড়কের নাগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয় বাংলাদেশ স্বাধীনের আগে। এত বছর আগে সেতুটি নির্মিত হলেও আজ অবধি শুধুমাত্র রেলিং রং করা ছাড়া সেতু আর কোন প্রকার সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘ এত বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন যাবৎ সেতুর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন চলাচল করায় সেতুর একপাশ ভেঙে ডেবে গেছে। মনে আতঙ্ক-ভয় আর ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারও মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটি যে কোনো মুহুর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজাদ মিয়া বার্তা বাজারকে বলেন, সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ভয়ে থাকতে হয়। কখন যেন এটি ভেঙে পড়ে। এমন আশঙ্কা নিয়ে ঐ সেতুর ওপর দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চলাচল করছি আমি সহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বার্তা বাজারকে জানান, পাশে কোন বিকল্প রাস্তা নেই। তাই আমি জনসাধারনকে অনুরোধ করছি তারা যেন আপাতত নাগরপুর চৌরাস্তা হয়ে হাসপাতালের মাঠের পাশ দিয়ে চলাচল করেন। সেতুটি পুর্ণনির্মাণের জন্য চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব দ্রুতই পুর্ণনির্মাণ করতে পারবো।
হাসান সিকদার/বার্তাবাজার/পি