হাতিয়ায় জোয়ারে প্লাবিত ২ ইউনিয়ন: ২০ কোটি টাকার ক্ষতি

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় গত ৬ দিন পুর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নলচিরা ও হরনী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল। বেড়িবাঁধ না থাকায় এই দুইটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা আরও বাড়ছে। এতে করে কৃষকের তরমুজ, রবিশস্যসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে প্রায় ২০ কেটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ রবিবার থেকে উপজেলায় পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারে পানির উচ্চতা বাড়ছে। প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় দুবার জোয়ার হচ্ছে। প্রতিবার জোয়ারে অন্তত ৮-১০ ঘন্টা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তাতে নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া, পঞ্চায়েত, লামছড়ি, কলাপাড়া, গচিঙ্গা গ্রাম ও হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামসহ ৭টি গ্রামের ৮৮ হেক্টর জমির রবিশস্য লোণা পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয় গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অনেকেই ক্ষেত থেকে অপরিপক্ক তরমুজ তুলে নিচ্ছে। কেউ কেউ পানির নিচ থেকে গাছ তুলে পেলছে। তরমুজ ক্ষেতের মধ্যে দেখা হয় তুফানিয়া গ্রামের সবজি চাষী মো: খোকন (৬০) এর সাথে। আলাপ কালে সে জানায়, এই বছর ৩ একর জমিতে তরমুজ, বাদাম ও মরিচের চাষ করেছে সে। কিন্তু যে সময় ফষল বিক্রি করার কথা ঠিক তার পূর্ব মুহূর্তে জোয়ারের পানি ভেসে গেছে সব। ৩ একর জমির মধ্যে সামান্য কিছু তরমুজ বিক্রি করতে পারলেও বাদাম ও মরিচ বিক্রির সময় এখনো হয়নি। জোয়ারের পানি আর না আসলেও লবণাক্ততা থাকায় পানি চলে যাবার পর ১১সবজি গাছ মরে যাবে বলে জানান সে।

শুক্রবার দুপুরে জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়া ফসলের খেত দেখিয়ে একই ভাবে জমিস উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন সহ আরও কয়েকজন চাষী আক্ষেপ করে জানান, এই এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকাই বারবার চাষীদের সর্বনাশ হচ্ছে । সামনে আরও চার-পাঁচদিন একই ভাবে জোয়ারের পানির চাপ থাকবে, এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেও জানান চাষীরা ।

নলচিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বাবলু জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর হাতিয়ার নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেড়ীবাঁধ তৈরি করা হয়। কিন্তু নলচিরা ও হরণী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় দরপত্র আহবান করতে একটু দেরি হওয়ায় ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি। এতে এসব এলাকা দিয়ে সহজে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ডুকে যাচ্ছে।

হরণী ইউনিয়নের চতলা ঘাট পানি ব্যবস্থাপনা কমিঠির সভাপতি মো: আরিফ বলেন, জোয়ারে পানিতে প্লাবিত এসব এলাকার বহু চাষী আদৌ কোন ফসল ঘরে তুলতে পারবে কি না, এনিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে তরমুজের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেক জায়গায় তরমুজচাষীদের ডুবে যাওয়া খেত থেকে ফসল বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আবার বহু চাষীকে লোকসান গুনে হা হুতাশ করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: নুরুল ইসলাম জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের আর্থিকসহ অন্যান্য সহায়তা করার জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

জিল্লুর রহমান রাসেল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর