জয়পুরহাটে ব্রীজের পিলার ভেঙ্গে চলাচলে দুর্ভোগ
পানি উন্নয়নের বোর্ডের অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের সময় জয়পুরহাটের ফিচকার ঘাট এলাকায় ব্রীজের মাঝের পিলারটি ভেঙ্গে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনাজপুর-ঘোড়াঘাট, গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি উপজেলায় চলাচল কারী হাজার হাজার পণ্যবাহী যানবাহন ও জনসাধারণ।
জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ফিচকার ঘাট এলাকা দিয়ে চলাচলের জন্য তুলসীগঙ্গা নদীর উপর ১৯৬৪ সালে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি তুলসীগঙ্গা, ছোট যমুনা, হারাবতী ও শ্রী নদীর ১০২ কিলোমিটার খনন কাজ ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ২০২০ সালে শুরু করে। হঠাৎ করে কিছুদিন আগে ফিচকার ঘাট ব্রীজের নিচ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত ভাবে মাটি উত্তোলন করেন। উত্তোনের পর ব্রীজের নিচে ও দু’পাশে ব্লক না দিয়ে পানি ছেড়ে দেওয়ায় মাঝের পিলারটি ভেঙ্গে ব্রীজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে উপজেলা প্রশাসন ওই ব্রীজ দিয়ে যানচাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে দিনাজপুর-ঘোড়াঘাট, গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি উপজেলায় চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ।
ফিচকার ঘাট ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচলকারী জুয়েল হোসেন, আলম, ফরহাদ সহ অনেকেই বলেন, নদী খননের সময় ব্রীজের দুই পাশে ৩০ ফিট করে বাদ দিয়ে খনন করার কথা ছিল। হঠাৎ করে ভেকু (এক্সেভেটর) মেশিন দিয়ে খনন করে। পরে আটকানো পানি ছেড়ে দিলে পানির স্রোতে ব্রীজের পিলারের গোড়ায় ফাটল ধরে। পরে নদী দিয়ে খোল চক্কর করে দেওয়ায় এদিক দিয়ে সবাই চলাচল করছে। রাস্তাটা এমন একটি ব্যস্ততম রাস্তা, এই দিক দিয়ে গবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঘোড়াঘাট সহ পাঁচবিবি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের লোকজন চলাফেরা করে। ব্রীজের এমন দশা হওয়ায় আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বালিঘাটা ইউপি সদস্য মাহবুব আলম বলেন, নদী খননের সময় ব্রীজের এদিক ওদিক ৩০ ফিট বাদ রাখা ছিল। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার এসে বলছে আপনারা খোঁড়েন, আমরা দেখতেছি। এক পর্যায়ে গিয়ে উত্তর দিকে পানি আটকানোর জন্য একটি বাঁধ বাঁধানো ছিল। সেই বাঁধটা কেটে দেওয়ার ফলে পানি ধাক্কায় এই ব্রীজটির এমন ক্ষতি হয়।
পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ব্রীজটি পুরাতন ও অনেক বছর আগের এটা ঠিক আছে। এটি চলমান ছিল, কোন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের কাজ চলছে। ঐ অংশটা ঠিকাদারার কাজ করতে চাইনি। ঐ অংশে পরে কাজ কার ফলে ব্রীজটির এমন দশা হয়। আমি মনে করি সত্যিকারের অর্থে এখানে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের অভাব ছিল।’
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বরমান হোসেন বলেন, তুলসীগঙ্গা নদী খনন হচ্ছে, এই নদী খননে ফিচকারঘাট এলাকায় একটি ব্রীজ আছে। এটি ১৯৬৪ সালে নির্মিত। নদী খননের ফলে ব্রীজের যে পিলার আছে, সেই পাঁচটি পিলারের মধ্যে একটি পিলারের গোড়া ভেঙ্গে যায়। পরে কেউ যেন বিপদে না পড়ে সেই জন্য আমরা ব্রীজটি দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি এবং পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের যারা ছিল তাদের সাথে কথা বলে আপদকালীন একটি ডাইভেশন রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাটি খনন করার পর রিংবার ছেড়ে দেওয়ায় পানির প্রচন্ড চাপে এই ক্ষতি হয়। পরেরদিন ডাইভেশন রোড করে দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কাঠের একটি ব্রীজ নির্মাণের সীদ্ধান্ত হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ারের অপরিকল্পিত সীদ্ধান্তে এমন কাজ হয়েছে বিষয়টি আমার এ বিষয়ে জানা নেই, কেউ বলে থাকলে তা ভুল বলেছে।
মিলন রায়হান/বার্তাবাজার/পি