৬ষ্ঠ ধাপে ভাসানচর নিয়ে আসা হলো আরও ২১২৫ রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের অংশ হিসাবে ভাসানচরে পৌঁছেছে আরও ২ হাজার ১২৫ জন রোহিঙ্গা। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ৬টি জাহাজে চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা হয়ে তারা ভাসানচরে পৌঁছেছেন।

৪ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক স্থানান্তরের এটি ৬ষ্ঠ ধাপের প্রথম অংশ। আগামী কাল শুক্রবার আরো একটি দল ভাসানচরে আসার উদ্দেশ্যে চট্রগ্রাম অবস্থান করছে বলে নৌবাহিনীর সূত্রে জানাযায়।

৬ষ্ঠ ধাপের প্রথম পর্বে পৌঁছানো রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫১২ জন পুরুষ, ৬১২জন নারী ও ১০০১ জন শিশু রয়েছে। এসময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ভাসানচরে আসার পর পরই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা। পরে ৬ষ্ঠ ধাপের প্রথম অংশে আসা রোহিঙ্গাদের দলটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ওয়্যারহাউজে। সেখানে নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ভাসানচরে বসবাসের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ধারণা দেয়। ওয়্যার হাউজে তাদেরকে দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়।

এর আগে, সকাল ৯টার দিকে হাতিয়ার ভাসানচর আশ্রয়ন-৩ এ স্থানান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় মোট ২১২৫ জন রোহিঙ্গা নৌবাহিনীর ৬ টি লজিস্টিক জাহাজযোগে চট্টগ্রাম বোটক্লাব জেটি হতে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দুপুর ৩টায় এসে ভাসানচরে পৌঁছান।

ভাসানচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহে আলম বার্তাবাজারকে জানান, রোহিঙ্গাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে প্রাথমিক মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষে গাড়িযোগে ওয়্যার হাউজে সমবেত করে ব্রিফ দেওয়া হয়। পরে ভাসানচরের ক্লাস্টারে স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থকে আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুহয়। বৃহস্পতিবার ৬ষ্ট ধাপে আসা ২হাজার ১শত ২৫ জন রোহিঙ্গা ছাড়াও এর আগে আরো ৫টি ধাপে ১৪হাজার ২শত ৭১ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে এসে অবস্থান করছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বার্তাবাজারকে বলেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ইতিমধ্যে প্রায় ৩হাজার ৫শত কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে। যাতে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু হলে পরের কয়েক মাসে অন্তত আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এর আগে আসেন আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ।

জিল্লুর রহমান রাসেল/বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর