কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নৌকা ডুবাতে আট ঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান নূর হোসেন। নৌকার প্রার্থী হাজী সোনালী জন সমর্থনের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থীকে জেতাতে মাঠে নেমেছে যুবলীগ ছাত্রলীগের একটি অংশ। কেন্দ্র ও জেলা আওয়ামীলীগের নিরব ভূমিকায় ক্ষোভ বাড়ছে দলীয় কর্মী সমর্থকদের মাঝে।
উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মোট চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ৪ জন। আলোচনায় রয়েছে নৌকার মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সোনা আলী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থী নূর হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণ ভোটারদের মাঝে নৌকার প্রার্থী হাজী সোনা আলী ও বর্তমান চেয়ারম্যান নূর হোসেনের জনপ্রিয়তা সমান ছিলো। গত ক’দিন ধরে তার ভাই জেলা যুবলীগ নেতা ইসমাঈল সিআইপি আনুষ্টানিক ভাবে প্রচারনায় নামলে পাল্টে যায় নির্বাচনী মাঠ, ভারী হয়ে উঠে নৌকার পাল্লা।
স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মতে, বর্তমান চেয়ারম্যান নূর হোসেনসহ তার পরিবারের অন্তত ৪ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মাদকের তালিকা ভূক্ত। তার দায়িত্বকালীন সময়ে এলাকায় মাদক কারবারীদের দৌরাত্ব বৃদ্ধি ও মাদক সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব চাইছে এলাকাবাসী।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২৫ মার্চ এক সমাবেশে জেলা আওয়ামীলীগের এক ডজন নেতার উপস্থিতে জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ নৌকার পক্ষে দলীয় নেতা কর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দিয়ে গেলেও তা মানছে দলীয় নেতা কর্মীদের একাংশ। এছাড়াও নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী নূর হোসেন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে, শৃংখলা ভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন বক্তব্যে নৌকার সমর্থকদের বিষোদগার করছেন বলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের অভিযোগ।
নির্বাচনে পরাজয়ের সম্ভাবনা থাকায় অন্য প্রার্থীদের সাথে জোট করে নৌকা ডুবাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ জেলা যুবলীগ নেতা ইসমাঈল সিআইপির।

আইনশৃংখলা বাহিনীর তথ্য মতে, গত বছর টেকনাফ থানা পুলিশের ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় নূর হোসেনে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে ইয়াবা মামলা আসামী করা হয়। সর্বশেষ ৩০ মার্চ অবৈধ ভাবে টাকা পাচারের ঘটনায় বিজিবির অনুসন্ধানে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হয়। এই ঘটনার পর নূর হোসেন ফের আলোচনায় উঠে আসে।
নৌকার প্রার্থী সোনালী ‘বার্তা বাজার’কে বলেন- গুটি কয়েক দলীয় নেতা কর্মী ছাড়া জন সমর্থন পাচ্ছি বেশ। ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতা কর্মীদের পাচ্ছিনা, তারা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ওপেন মাঠে নেমেছে, নৌকার বিপক্ষে স্লোগান দিচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাষ্টার জাহেদ হোসেন জানান, জেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে প্রত্যেক ইউনিয়নে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে এক জোট হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সাবরাং ইউনিয়নের যুবলীগ, ছাত্রলীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি কাজ করছে। তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করছে।
বিদ্রোহী প্রার্থী নুর হোসেনের মুটো ফোনে টানা তিন দিন চেষ্টা করেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
খাঁন মাহমুদ আইয়ুব/বার্তাবাজার/ভি.এস