কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে মেঘনা নদী, যান চলাচল ব্যাহত
কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে মেঘনা নদী। ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুরো নদী কচুরিপানার ভরে যাওয়ায় নরসিংদীর সাথে চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চরাঞ্চলবাসী।
সরেজমিনে নরসিংদীর মেঘনা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নরসিংদী থানাঘাট হতে করিমপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার নদীপথ দখল করে নিয়েছে ভাসমান কচুরিপানা।এতে নরসিংদীর সাথে চরাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে গত বেশ কয়েকদিন যাবৎ ভোগান্তিতে পড়েছে চরাঞ্চলবাসি।
নৌপথে চলাচলকারী চরাঞ্চলবাসী অনেকেই জানান, তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যসামগ্রী নৌকা যোগে পরিবহন করতে মারাত্নক দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে তারা। নদী জুড়ে ভাসমান কচুরিপানা থাকায় লঞ্চ, স্টিমার, ইঞ্চিন চালিত নৌকা চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।ইতোমধ্যে নরসিংদী থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারি কয়েকশ’ স্পিডবোর্ট প্রায় বন্ধেন পথে ।এ অবস্হায় লোকজন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের গন্তব্যে পৌছাতে পারছেনা।আগে যেসব স্থানে যেতে সময় লাগত এক ঘন্টা এখন সেখানে যেতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা।
জানা যায়, ভাসমান এসব কচুরিপানার উৎস হচ্ছে এক শ্রেণীর প্রতাপশালী ব্যক্তিদের অবৈধ মাছের ঘের।আর ওইসব ঘেরের কচুরিপানা বাতাসে এসে জমা হয় নরসিংদী নদীবন্দরে। প্রতি বছরই এ সময়ে নরসিংদীর মেঘনা নদী দখল করে নেয় ভাসমান এই কচুরিপানা। যার ফলে প্রতিবছরই এমন দুর্ভোগে পড়তে হয় চরাঞ্চলসহ নৌপথে যাতায়তকারিদের।
ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝি আবুল হোসেন (৫২) জানান, কচুরিপানার কারনে ঠিকভাবে নৌকা চালাতে পারেনা তারা । একটু পরপরই ভাসমান কচুরিপানার স্তুপে আটকে যায় নৌকা। এসময় লগি বৈঠা দিয়ে আটকে যাওয়া নৌকাকে মুক্ত করতে হয়। তাছাড়া যে গতিতে নৌকা চালায় তারা কচুরিপানার কারণে সেই স্বাভাবিক গতিতে চলাতে পারে না তারা।এতে গন্তব্যে পৌছতে নিদ্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দুই তিন গুণ বেশী সময় লেগে যায়।
স্পিডবোর্ট চালক করিম মিয়া (৪৫) বলেন, নদীতে কচুরিপানা এতো বেড়েছে যার কারণে তাদেরকে বোর্ট চালানোই প্রায় বন্ধের পথে।
এ বিষয়ে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র সংকর চক্রবর্তী সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, নদীর নাব্যতা রক্ষায় নদী খনন চলমান আছে। তিনি আরো বলেন, অবৈধ মাছের ঘের থেকে এই কচুরপানা আসছে। এর জন্য আমরা অবৈধ দখলদার ও অবৈধ মাছের ঘের উচ্ছেদ করার পদক্ষেপ নিব। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয় মোবাইল কোর্ট পরিচালন করবেন এ বিষয়ে আমাদেরকে সদয় অবগত করেছেন।
একে এম রেজাউল করিম/বার্তাবাজার/পি